সমন্বয়ককে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার অন্যতম সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে ডিবি ও সিআইডি পরিচয়ে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ রবিবার (২৮ জুলাই) বিকেল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে তারা সেখানে একটি সমাবেশ করেন।

সমাবেশে আরিফ সোহেলের ছোট বোন উম্মে খায়ের ঈদি বলেন, জোর করে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু সে কোথায় আছে আমরা জানি না। ন্যায়ের অধিকার আদায়ের লড়াই করার কারণে আমার ভাইকে তুলে নিয়ে যেতে পারে না। আমার পরিবার ভীত-সন্ত্রস্ত। আমরা এখনো জানি না আমাদের ভাই কোথায়।

ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের একাংশের সভাপতি অমর্ত্য রায় বলেন, এ সরকার তো জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসেনি। তারা যে পরিমাণ স্বৈরাচারী আচরণ করছে তাদের উৎখাত করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। ১৪ তারিখ থেকে দেশে যে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হলো, প্রথম ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করল, পরবর্তীতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করল, তারপর বিজিবি এবং সেনাবাহিনীও নামানো হলো এবং দেশে কারফিউ দেওয়া হলো। এগুলো তো স্বৈরাচারের আচরণ। একজন রিকশাওয়ালা মামা থেকে শুরু করে এই দেশের কোনও মানুষের বাকস্বাধীনতা নেই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বার বার স্বৈরাচার হঠিয়েছে এবং এইবারও তাই ঘটবে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন জাবি শাখার সমন্বয়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, আরিফ কোথায় আছে, কেমন আছে এখন অবধি আমরা তা জানি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই। আমরা শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ। হামলা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। আমাদের অনেক সমন্নয়ক এবং শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার এবং পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের হল খুলে দেওয়া হোক এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

এর আগে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা আরিফ সোহেলকে রাতের অন্ধকারে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার তীব্র নিন্দা জানান। দেশ জুড়ে পুলিশের হয়রানি এবং গ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানান।