আন্দোলন প্রত্যাহারের পর অন্য সমন্বয়করা যা বলছেন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি জানিয়েছেন ৬ সমন্বয়ক। রবিবার রাতে ডিবি কার্যালয় থেকে এক ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। তবে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছেন অপর সমন্বয়করা।

ছয় সমন্বয়কের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় সহ-সমন্বয়ক রিফাত রশিদ ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘জিম্মি করে অস্ত্রের মুখে ডিবি অফিসে হাতে স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে জোরপূর্বক যে বিবৃতি দেয়া হয়েছে তা এদেশের ছাত্রসমাজ প্রত্যাখ্যান করেছে।’

একই কথা বলেছেন আরেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘোষণা প্রত্যাহার করছি। আমাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা আসছে।’

অপর সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, ‘জিম্মি করে বিবৃতি আদায় ছাত্রসমাজ মেনে নিবে না।’

এর আগে ৬ সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার এবং নুসরাত তাবাসসুম এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

এতে নাহিদ ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অদ্ভুত পরিস্থিতিতে অনেকে অপ্রত্যাশিতভাবে আহত এবং নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ নানান সহিংস ঘটনা ঘটেছে। আমরা এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধান দাবি কোটার যৌক্তিক সংস্কার, যা সরকার ইতিমধ্যে পূরণ করেছে। এখন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। সার্বিক স্বার্থে এই মুহূর্ত থেকে আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করছি।

এদিন ভিডিও বার্তার আগে সমন্বয়কদের ডিএমপির গোয়েন্দা প্রধান হারুন-অর-রশিদ আপ্যায়ন করেন। এ সংক্রান্ত ছবিসহ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে ডিবি হারুন লিখেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। তাই ওদের ডিবি কার্যালয়ে এনে তাদের সাথে কথা বললাম। কি কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে! ওদের কথা শুনে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের নানা পরিকল্পনার কথা জানানোর পর তাদের উদ্বেগ দূর হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিম ডিবি ডিএমপি বদ্ধপরিকর।