কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের ফেলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। গত শনিবার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানায় ছাত্রলীগের এক কর্মী মামলাটি করেন। এতে ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় তিনটি মামলা হলো।
নগর পুলিশের পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, ১৬ জুলাই বিকেলে আন্দোলন চলাকালে সংঘর্ষের মধ্যে মুরাদপুরে ছাত্রলীগকর্মীদের ছাদ থেকে ফেলে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নতুন করে একটি মামলা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ভবনের ছাদে আটকে পড়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তাক্ত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাদে পড়ে আছেন। হামলার মুখে ছাদ থেকে ওই ভবনের পেছনের অংশের কার্নিশ ও পানির পাইপ বেয়ে তারা নেমে আসার চেষ্টা করছেন। এ সময় দুই-তিনজনকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। এ ঘটনায়
গুরুতর আহত দুজন এখন ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তারা হলেন যুবলীগকর্মী মো. সোহেল (২৮) ও মহসীন কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী জালাল উদ্দিন জুবায়ের (২২)। আরেকজন গুরুতর আহত যুবলীগকর্মী মো. ইকবাল হোসেন (২৪) একই হাসপাতালের আইসিইউ থেকে অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘১৬ জুলাই বিকেলে কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষের একপর্যায়ে মুরাদপুরের একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ফেলে দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নতুন করে আরও একটি মামলা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় আরও দুটি মামলা করে ছাত্রলীগ। এসব মামলায় শনিবার পর্যন্ত ১৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেদিন লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে শিবির ও ছাত্রদলের ক্যাডাররা। তারা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে ছাত্রলীগকর্মীদের ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। ফেলে দেওয়ার পরও আহতদের পিটিয়েছে তারা।’