‘আন্দোলনে গুলি চালানো ফৌজদারি অপরাধ’

মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যত ছাত্র-জনতার মৃত্যু হয়েছে, দেশে অরাজনৈতিক দাবির কারণে এর আগে এত মানুষের মৃত্যু হয়নি। সরকার প্রতি পদে সংবিধানের বরখেলাপ করে যাচ্ছে। তারা বলেছেন, সংঘাতের ঘটনায় গুলি চালানো ফৌজদারি অপরাধ এবং এর বিচার হওয়া উচিত।

‘গণহত্যার বিচার চাই, গায়েবি মামলা-গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বন্ধ কর’ শিরোনামে আজ সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে মানবন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা।

এতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, অ্যাডভোকেট তোবারক হোসেন, ব্যারিস্টার সারা হোসেনসহ আরও বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অনিক আর হক, মনজুর আল মতিন প্রমুখ। সভাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এম জামিউল হক ফয়সাল।

অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না বলেন, ‘গ্রেপ্তার রিমান্ড নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে ব্লক রেইড দিয়ে কোন আইনে, কোন অধিকারে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে? আমরা ধিক্কার জানাই।’ তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অরাজনৈতিক দাবির আন্দোলনে এতগুলো মানুষকে হত্যার ঘটনা ঘটেনি। সরকার প্রতি পদে সংবিধানের বরখেলাপ করে যাচ্ছে।’

সারা হোসেন বলেন, ‘সংবিধান মানুষকে জীবনের, ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার দিয়েছে। এত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ কেন মরল, কারা মারল আমরা জানতে চাই। এখন হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ গণগ্রেপ্তারের মুখে পড়েছেন।’

তোবারক হোসেন বলেন, ‘ছাত্ররা যখন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিল তখনই ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের আক্রমণ করল। এরপর নির্বিচারে গুলি। এভাবে গুলি চালানো অসাংবিধানিক ও শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এর বিচার হওয়া উচিত।’

এতে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রতিটি হত্যার ঘটনার তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।