চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় চালুর অঙ্গীকার ইতালির

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) থেকে গত বছর ইতালি বেরিয়ে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্য থমকে যায় সম্পর্ক। এবার চীনের সঙ্গে সেই সম্পর্ক ‘পুনরায় চালু’ করার অঙ্গীকার করেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। পাঁচদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে গিয়ে এ অঙ্গীকার করেন তিনি। খবর বিবিসির। 

প্রায় দুই বছর আগে ইতালির ক্ষমতায় আসা প্রধামন্ত্রী মেলোনি এই প্রথম চীন সফরে গিয়েছেন। পাঁচ দিনের এ সফরকালে সোমবার (২৯ জুলাই)  বিকেলে রাজধানী বেইজিংয়ে দিয়াওয়ুথাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্বে বিভিন্ন উত্তেজনাপূর্ণ বিষয় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে চীন এক ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচক’ দেশ। ওদিকে, শি’ও বেইজিং এবং রোমের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সহনশীলতা, পারষ্পরিক আস্থা ও সম্মানের প্রশংসা করেন।

মেলোনি এর আগে রোববার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনায় সই করেন তিনি।

এরপর প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে বৈঠক শেষে মেলোনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনিরাপত্তা বাড়ছে। আমি মনে করি এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে চীন নিশ্চিতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ আলোচক। শান্তির নিশ্চয়তা পেতে এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য দুই দেশকেই একযোগে ভাবনা-চিন্তা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিবিসি জানায়, চীনের আলোচিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) চুক্তি সই করা একমাত্র পশ্চিমা দেশ ছিল ইতালি। কিন্তু ওই সময় দেশটির এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো।

২০২২ সালে মেলোনি ইতালির ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর আগের সরকারের চেয়ে একটু বেশিই পশ্চিমা-পন্থি এবং নেটো-পন্থি পররাষ্ট্রনীতি নেন। বিআরআই থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে মেলোনি আগের সরকারের এই চুক্তি করাকে ‘মারাত্মক ভুল’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

তবে ইতালি সরকারের এক কর্মকর্তা সে সময় বলেছিলেন, এই চুক্তির অংশ না থেকেও ইতালি ‘চীনের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক’ বজায় রাখতে চায়। যেমন: বিআরআই এর অংশ না হয়েও চীনের সঙ্গে জি-৭-ভুক্ত অন্য দেশগুলোর ইতালির চেয়েও ভালো সম্পর্ক রয়েছে।