কয়েক বছর ধরেই ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে বেসরকারি ওয়ান ব্যাংকের। তবে সুদের ঊর্ধ্বমুখী হারে চলতি বছর স্বাভাবিক ব্যবসায় ফিরেছে ব্যাংকটি। চলতি বছর প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) নিট সুদ হারে ভালো প্রবৃদ্ধি পাশাপাশি সরকারকে টাকা ধার দিয়ে ভালো পরিচালন আয় করেছে। তবে এ আয়ের বড় অংশই চলে গেছে খেলাপি ঋণের বিপরীতে রাখা সঞ্চিতিতে। চলতি প্রথমার্ধে ২৫৭ কোটি টাকারও বেশি সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়েছে, যা ব্যাংকটির সঞ্চিতি ও কর-পূর্ববর্তী আয়ের প্রায় ৬৩ শতাংশ। ওয়ান ব্যাংকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
দেশে চলমান প্রায় দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে গত এক বছর ধরেই ঋণের সুদ হার বাড়ছে। এর সুফল পেয়েছে ওয়ান ব্যাংকও। চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংকটির নিট সুদ আয় বেড়েছে ৫৫ শতাংশ। এ সময় নিট সুদ আয় হয়েছে ২৪৭ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৫৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
এদিকে ব্যাংকটির সুদ আয়ের চেয়েও বেশি আয় এসেছে বিনিয়োগ থেকে। মূলত সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি কয়েক বছরের মধ্যে এ খাতে ভালো আয় করেছে। এক বছরের ব্যবধানে সরকারি সিকিউরিটিজে সুদ হার প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। চলতি বছর সরকারি বিল, বন্ডে বিনিয়োগ থেকেও ১২ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যাচ্ছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিল ও বন্ডে ওয়ান ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ ছিল ৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ রয়েছে ৩ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির মোট বিনিয়োগের ৭৭ শতাংশের বেশি।
চলতি প্রথমার্ধে সরকারি-বেসরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে ওয়ান ব্যাংকের আয় হয়েছে ৩৭৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫৫ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে এ খাত থেকে ব্যাংকটির আয় হয়েছিল ১৪৫ কোটি টাকা। অবশ্য চলতি প্রথমার্ধে কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ থেকে ব্যাংকটির আয় কমেছে। তবে সব মিলিয়ে পরিচালন আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। চলতি প্রথমার্ধে ৭৪১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৪৬২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
চলতি প্রথমার্ধে ওয়ান ব্যাংকের পরিচালন আয় বাড়লেও পরিচালন ব্যয় প্রায় একই রয়েছে। পরিচালন ব্যয় শেষে ব্যাংকটির সঞ্চিতি ও কর-পূর্ববর্তী আয় দাঁড়িয়েছে ৪০৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩০ শতাংশ বেশি। তবে চলতি প্রথমার্ধে পরিচালন মুনাফায় যে উল্লম্ফন তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা যায়নি খেলাপি ঋণের কারণে। চলতি প্রথমার্ধে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে ওয়ান ব্যাংককে ২৫৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সঞ্চিতি হিসেবে সংরক্ষণ করতে হয়েছে। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ ছিল ৬৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ বেড়েছে ২৭৩ শতাংশ।
নিট সুদ আয় ও সরকারি সিকিউরিটিজ থেকে ভালো আয় আসার পরও বিপুল পরিমাণের সঞ্চিতির কারণে ওয়ান ব্যাংক নিট মুনাফায় উল্লম্ফন ধরে রাখতে পারেনি। যদিও আগে বছরের প্রথমার্ধের তুলনায় ব্যাংকটির মুনাফা বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি প্রথমার্ধে কর পরিশোধের পর ওয়ান ব্যাংকের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১১৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, যার ৬৫ শতাংশই এসেছে দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) থেকে। চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ৭৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মন্দ ঋণের বিপরীতে যে বিপুল পরিমাণের সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়েছে, তা মূলত দ্বিতীয় প্রান্তিকেই রাখতে হয়েছে। এ সময়ে সঞ্চিতি বাবদ ব্যাংকটি ১৯৩ কোটি টাকা সংরক্ষণ করেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকা সঞ্চিতি বাবদ সংরক্ষণ করেছিল।