ব্যাংকার বাবার চাকরির কারণে ছোটবেলায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছিল তাকে। মা–বাবার অনুপ্রেরণাতেই গানের জগতে পা রাখেন। প্রতিবেশী একজনের কাছে গান শিখেছিলেন যখন তিনি প্রথম শ্রেণিতে পড়তেন এবং প্রথমবার মঙ্গে গান করেন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়ে। বলছিলাম সংগীতশিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েলের কথা।
১৯৮৬ সালে ঢাকায় চলে আসেন জুয়েল। এসেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি–কেন্দ্রিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন। তখনই বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটতে শুরু করে। ব্যান্ড সংগীত যখন তুমুল আলোচনায়, ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী কণ্ঠ নিয়ে হাজির হন এই শিল্পী।
১৯৯৩ সালে আইয়ুব বাচ্চুর সুরে প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ দিয়ে বাজিমাত করেন জুয়েল। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘এক বিকেলে’ (১৯৯৪), ‘আমার আছে অন্ধকার’ (১৯৯৫), ‘একটা মানুষ’ (১৯৯৬), ‘দেখা হবে না’ (১৯৯৭), ‘বেশি কিছু নয়’ (১৯৯৮), ‘বেদনা শুধুই বেদনা’ (১৯৯৯), ‘ফিরতি পথে’ (২০০৩), ‘দরজা খোলা বাড়ি’ (২০০৯) এবং ‘এমন কেন হলো’ (২০১৭)। এছাড়াও বেশ কিছু সিঙ্গেল ও মিশ্র অ্যালবামে গেয়েছেন জুয়েল।
২০১১ সালে তার লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর ফুসফুস এবং হাড়েও সেটি ক্রমশ সংক্রমিত হয়। দেশ ও বিদেশের চিকিৎসা সহযোগিতায় ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। মনের জোর হারাননি। গেয়ে গেছেন গান এবং করে গেছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠান। গায়কের বাইরেও তিনি ছিলেন একজন টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র নির্মাতা। এর পাশাপাশি অনুষ্ঠান সঞ্চালনাও করতেন।
কিছুদিন আগেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হলে আর ফিরে আসেননি তিনি। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।