শেষ পর্যন্ত ফিরলেন না আবিদুর রেজা জুয়েল। দেশের সংগীতাঙ্গন যখন শাফিন আহমেদের মৃত্যুশোকই কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তখনই জুয়েলের মৃত্যুর খবর।
নব্বই দশকের মিক্সড অ্যালবামে জুয়েলের গান ছিল অপরিহার্য। তার ব্যতিক্রমী কণ্ঠের ভক্ত হয়েছিলেন তারাই যারা আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, শাফিনের ভক্ত। বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণাতেই জুয়েলের গানের জগতে আসা। প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রতিবেশী একজনের কাছে গান শিখেছিলেন। যখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র জুয়েল তখনই মঞ্চে গান করেন। বাবা ব্যাংকার ছিলেন। তাই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতে হতো। ১৯৮৬ সালে ঢাকায় চলে আসেন জুয়েল। এসেই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-কেন্দ্রিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়েন। তখনই বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটতে শুরু করে।
জুয়েলের করা ১০টি একক অ্যালবামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘এক বিকেলে’ অ্যালবামটি। এটি প্রকাশের পর তার নাম হয়ে যায় ‘এক বিকেলের জুয়েল’।
গানের বাইরের জুয়েল
জুয়েল একই সঙ্গে সংগীতশিল্পী, টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে জুয়েল বলেছিলেন, আর্থিক ও মনের কথা বিবেচনা করে তিনি তার পেশাকে দুটো ভাগে ভাগ করে নিয়েছেন। গান করতেন হৃদয়ের টানে। শিল্পী জুয়েল হিসেবে পরিচিত হতেও পছন্দ করতেন। তাই গান করার সময় যাতে আর্থিক টানাপড়েনে পড়তে না হয়, সে জন্য আরেকটি পেশা বেছে নিয়েছিলেন।
জুয়েলের গান
জুয়েলের প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘এক বিকেলে (১৯৯৪)’, ‘আমার আছে অন্ধকার’ (১৯৯৫), ‘একটা মানুষ’ (১৯৯৬), ‘দেখা হবে না’ (১৯৯৭), ‘বেশি কিছু নয়’ (১৯৯৮), ‘বেদনা শুধুই বেদনা’ (১৯৯৯), ‘ফিরতি পথে’ (২০০৩), ‘দরজা খোলা বাড়ি’ (২০০৯) এবং ‘এমন কেন হলো’ (২০১৭)।
একটি করে গান নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে আরও দুটি অ্যালবাম ‘তাতে কি বা আসে যায়’ (২০১৬) এবং ‘এই সবুজের ধানক্ষেত’ (২০১৬)।
ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস
২০১১ সালে তার লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর ফুসফুস এবং হাড়েও সেটি ক্রমশ সংক্রমিত হয়। দেশ ও বিদেশের চিকিৎসা সহযোগিতায় ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন। মনের জোর হারাননি। গেয়ে গেছেন গান এবং করে গেছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠান। কিছুদিন আগেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হলে আর ফিরে আসেননি, মারা যান মঙ্গলবার।