শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ৪০

খুলনায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রীসহ অন্তত ৭০ জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, শিক্ষার্থী ও পুলিশ সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি পালনের জন্য আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা একজন-দুজন করে নগরীতে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ বিভিন্ন অলিগলি থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে। পরে দুপুর ১টার দিকে নগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। পুলিশ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিলে ছাত্রদের একটি অংশ ময়লাপোতা মোড়স্থ আহসানুল্লাহ কলেজে আশ্রয় নেয়। তারা ভবনের ভেতর প্রবেশ করে তালা লাগিয়ে দেয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে তালা ভেঙে বেশ কিছু শিক্ষার্থী আটক করে। দুপুর ১টার পর থেকে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাত রাস্তার মোড়ে জড়ো হয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডের বিচার দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। দুপুর ২টার পর সাত রাস্তার মোড় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দখলে চলে যায়। এরপর নগরীর ময়লাপোতা থেকে বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের চারপাশ থেকে ঘিরে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইটপালকেল নিক্ষেপ করে পাল্টা ধাওয়া দেয়। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ এবং পুলিশের ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে সাত রাস্তার মোড় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় কেডিএ এভিনিউসহ ওই এলাকার সড়ক ও অলিগলিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে টিকতে না পেরে শিক্ষার্থীরা পিছু হটে। পরে শিক্ষার্থীরা মডার্ন মোড়সহ বিভিন্ন জায়গায় সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশকে ধাওয়া দেয়। এ সংঘর্ষ সাত রাস্তা মোড়ের পশ্চিমে ময়লাপোতা মোড় এবং পূর্ব দিকে রয়্যাল মোড়, সিটি কলেজ মোড়, সুন্দরবন কলেজ মোড়, বায়তিপাড়া মোড়, আহসান আহমেদ মোড়, বড় মির্জাপুর, টিবি বাউন্ডারি রোড, পিটিআই মোড়, টুটপাড়া কবরখানা মোড়, দোলখোলাসহ প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জায়গায় বাসের টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পাঁচ দফায় বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে দৈনিক কালবেলার খুলনা প্রতিনিধি বসির হোসেন, পুলিশ কনস্টেবল মেহেদী হাসান ও শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রীও রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফাতেমা তুজ আয়শা, আরশা সিদ্দিকা ও এবটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মাসুম বিল্লাহসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে।

ফাতেমা তুজ আয়শা, আরশা সিদ্দিকা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি। পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করলেও আমাদের আটক করেছে। পুলিশের লাঠিচার্জে আমরা আহত হয়েছি। আমাদের ভাইদের হত্যার বিচার চাওয়া কী আমাদের অপরাধ?

এ ব্যাপারে বিকাল পৌঁনে ৪টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, কত রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে তা এখনো বলা যাচ্ছে না। সোনাডাঙ্গা থানায় ২০ জন শিক্ষার্থী ও সদর থানায় ৫০ জনের মত শিক্ষার্থীকে আটক রয়েছে। আটককৃতদের যাচাই বাছাই চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের  (কেএমপি) কমিশনার মো. মোজাম্মেল হক বলেন, কতজনকে আটক করা হয়েছে তা এখন জানানো অসম্ভব। তবে আটকদের মধ্যে কারা সহিংসতায় জড়িত তাদের ভিডিও ফুটেজ এবং যারা জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত আছে তাদের রাখব। আর যারা ইনোসেন্ট, বয়স কম— এ রকম কিছু ধরা পড়েছে তাদের ছেড়ে দেব। আমাদের দুই-একজন আহত হতে পারে। এছাড়া ছাত্রদেরও তেমন কেউ আহত হয়নি। তিনি বলেন, আমরা শুধু টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছি। কোনো রাবার বুলেট ছোড়া সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করতে খুবি প্রশাসনের আহ্বান

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের হয়রানি না করতে আহ্বান জানিয়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) প্রশাসন। বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নানা সংবাদ গণমাধ্যমে পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আহ্বান জানাচ্ছে। এছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হলে তাকে ছাত্র বিষয়ক পরিচালকের দপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।