ইরানের রাজধানী তেহরানে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের পর এবার সামরিক শাখা আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের প্রধান মোহাম্মদ দায়েফকে হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) আজ বৃহস্পতিবার এ দাবি করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, গত ১৩ জুলাই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভূখণ্ড গাজার খান ইউনিস এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় মোহাম্মদ দায়েফ নিহত হন। তবে হামাস এখনো মোহাম্মদ দায়েফের মৃত্যু নিশ্চিত করেনি।
এর আগে, গতকাল বুধবার ইরানের রাজধানী তেহরানে এক হামলায় ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। তার ঠিক এক দিন পর সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ দায়েফের নিহত হওয়ার দাবি করল ইসরায়েল।
মোহাম্মদ দায়েফের এক চোখ, এক পা এবং এক হাত নেই। কিন্তু ইসরায়েলে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাসের হামলার পেছনে তাকেই ভাবা হতো মূল কারিগর। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে গাজার খান ইউনিসের একটি শরণার্থী শিবিরে জন্ম দায়েফের। দারিদ্র্যপীড়িত পরিবারে বড় হয়েছেন তিনি। ফলে সাময়িকভাবে স্কুল ছেড়ে গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে খামারে কাজ করাসহ অনেক কিছুই করতে হয়েছে তাকে। তবে পরবর্তীতে গাজার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক অর্জন করেছিলেন দায়েফ। আশির দশকের শেষের দিকে যখন হামাস গঠিত হয়েছিল, তখন দায়েফের বয়স ছিল বিশের কোঠায়।
২০০২ সালে হামাসের সামরিক শাখা আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের প্রধান নিযুক্ত হন দায়েফ। আরবি পত্রিকা আশরক আল আওসাত জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের এই যোদ্ধা ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য মূর্তিমান ত্রাস। ইসরায়েল তার ওপর অন্তত সাত দফা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় দায়েফ তার দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে হারিয়েছেন। চোখ, পা, হাত হারিয়ে তাকেও পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। কিন্তু কোনো কিছুই বিচলিত করতে পারেনি তাকে।
হামাসের প্রয়াত আধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমেদ ইয়াসিন মোহাম্মদ ইসরায়েলি হামলায় পঙ্গু হয়েছিলেন। তারপরও হুইলচেয়ার ব্যবহার করে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ২০০৪ সালে শেখ ইয়াসিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। দায়েফও ঠিক যেন শেখ ইয়াসিনের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। হুইলচেয়ারে বসেই নেতৃত্ব দেন আল-ক্বাসাম ব্রিগেডকে।