আগেও ৩ বার নিষিদ্ধ হয়েছিল জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম সমালোচিত দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশে নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেও দেশের রাজনীতিতে টিকে যাওয়া ও প্রতিষ্ঠা পাওয়া নিয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের হতাশা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীল নাগরিকদের কাছে দলটি সবসময় ঘৃণিতই ছিল। তারপরও ধর্মীয় আবেগ ও রাষ্ট্রীয় বিভক্তির সুযোগ নিয়ে দলটি রাজনীতিতে স্থায়ী আসন গড়ে নেয়। 

জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বিকেলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহারের’ কারণে। সে সময় সংবিধানর ৩৮ ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। কেবল স্বাধীন বাংলাদেশেই নয় যে পাকিস্তান নামক দেশে জামায়াতে ইসলামীর জন্ম সেদেশেও তাদের দুবার নিষিদ্ধ করা হয়। প্রথমবার ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়। সে বার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় উসকানির অভিযোগে দলটি নিষিদ্ধ হয়। তবে অল্পদিন পরেই তারা আবার রাজনীতি করার সুযোগ পায়। এরপর ১৯৬৪ সালে আবারও নিষিদ্ধ করা হয় জামায়াতকে। এবার কারণ হিসেবে বলা হয় মুসলিম পরিবার আইনের বিরোধিতা। তবে এই নিষেধাজ্ঞাও বেশিদিন ছিল না। 

পাকিস্তানে যেমন নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও জামায়াতে ইসলামী রাজনীতিতে ফিরে আসে একইভাবে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও তারা ফিরত এসেছিল। ৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার আগ পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে জামায়াতের অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সময় ১৯৭৬ সালে ধর্মীয় রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। ফলে রাজনীতিতে পুনরায় ফিরে আসে দলটি।

১৯৭৬ সালের ৩ মে রাষ্ট্রপতি এ.এস.এম সায়েম একটি অধ্যাদেশ জারি করে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। রাষ্ট্রপতি সায়েম অধ্যাদেশ জারি করে থাকলেও এর নেপথ্যে ছিলেন জিয়াউর রহমান।

২০১৩ সালের ১ অগাস্ট হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ‘অবৈধ ও বাতিল’ ঘোষণা করে রায় দেয়। সংবিধানের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সাংঘর্ষিক হওয়ায় আদালত এই রায় দেন। এরপর থেকে দলটি সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না পেলেও অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট করে অংশ নেয়।