শঙ্কার মেঘ কাটল

দেশের বিরাট একটা অংশের দর্শক এখন ইউটিউবনির্ভর। তারা ইউটিউবেই নাটক দেখেন। দেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছে ফেসবুক-ইউটিউব কেন্দ্র করে নির্মাণ করা নাটকের সংশ্লিষ্টরা। মুক্তি আটকে গেছে বহু নাটকের, সেই সঙ্গে শঙ্কার মেঘ জমে উঠেছিল সংশ্লিষ্টদের মনে।

প্রায় ১৪ দিন পর ফেসবুক এবং ইউটিউব সেবা চালু করা হলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে নির্মাতা, শিল্পী ও প্রযোজকদের মধ্যে। দেশের বাইরেও বাংলাভাষী দর্শকের একটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা; সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নাটক মুক্তি না পাওয়ায় তারাও অনেকটা হতাশ ছিলেন। মাঝের এই সময়গুলোতে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় যে ক্ষতিটা হয়েছে সেটা অপূরণীয় এবং নতুন সুখবরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলেই মনে করছেন প্রযোজকদের অনেকে।

শিল্পী, নির্মাতা এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, ইন্টারনেট বন্ধে যে ক্ষতিটা হয়েছে সেটা তো অপূরণীয়। ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজগুলোতে দর্শকও কমে যাওয়ার একটা শঙ্কা রয়েছে। ধারাবাহিকতা ভঙ্গের একটা প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব

জনপ্রিয় নাট্য অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশের নাটকগুলো এখন বেশিরভাগই ইউটিউবনির্ভর। শুধু নাটক নয়, এই মাধ্যমে আমরা গান শুনি-দেখি, খবর দেখি এবং অনেক তথ্য সংগ্রহ করি এখান থেকে। ইউটিউব চালু হয়েছে এটা খুবই ভালো খবর। তবে একটা বিষয় নিয়ে এই মুহূর্তে আমি খুবই শঙ্কিত যে, দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে এই মুহূর্তে কাউকে বলতে পারব না যে, নাটক দেখুন। সময়টা আসলে শুধু নাটক দেখার জন্য না। একটা অস্থির সময়ে আছি আমরা সবাই। এই সময়টাতে ইউটিউব চলে এলেই যে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে, এটা আসলে বলা মুশকিল।’

নাট্য নির্মাতা প্রবীর রায় চৌধুরী

নাট্য নির্মাতা প্রবীর রায় চৌধুরী বলেন, ‘এই পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলো ঈদের পর থেকে প্রায় বসা। সত্যি বলতে দেশের এই পরিস্থিতিতে কেউ নাটক নির্মাণ নিয়ে ভাবছে না। একটা উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় যাচ্ছে। ইউটিউবে নাটকও ওভাবে রিলিজ হচ্ছে না। সবাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছে।’

সিএমভি ইউটিউব চ্যানেলের কর্ণধার সাহেদ আলী পাপ্পু

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভি ইউটিউব চ্যানেলের কর্ণধার সাহেদ আলী পাপ্পু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা যখন কোনো কনটেন্ট ছাড়ি সেটার রেভিনিউ জেনারেট হতেও সময় নেয়। সবগুলো তো আর এক সঙ্গে আসে না। নতুন কনটেন্ট ছাড়ার পরেও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে স্বভাবতই সেটা রেভিনিউতে আঘাত করে। তাছাড়া স্পন্সরশিপদের সঙ্গেও আমাদের একটা কমিটমেন্ট থাকে, সেই জায়গা থেকেও সমস্যা হয়। সবকিছু মিলিয়ে যে ক্ষতিটা হয়েছে সেটা তো রিকভার করা সম্ভব না। দুই থেকে তিনটি কনটেন্ট মুক্তি দিতে পারিনি এবং আগে যেগুলো রিলিজ দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর ভিউ কমে গেছে এবং রিচ কমে গেছে। যেহেতু ইউটিউব সেবা চালু হয়েছে এখন ক্ষতি কতটুকু কম করা যায় কিংবা কতটুকু রিকভার করা যায় সেটার খেয়াল রাখতে হবে। যদি ২৫ ভাগও রিকভার করা যায় তাহলে সেটাও অনেক।’

ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার আকবর হায়দার মুন্না

ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার আকবর হায়দার মুন্না বলেন, ‘নাটক প্রচারের কয়েকটা মাধ্যমের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ইউটিউব যা বলার অপেক্ষা রাখে না। সব শ্রেণির দর্শক ইউটিউবের মাধ্যমে যে যার পছন্দমতো বা দরকার মোতাবেক কনটেন্ট দেখে। মাঝে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় আমরা সাধারণ মানুষ ইউটিউবে পছন্দের নাটক দেখা থেকে বিরত ছিলাম। নাটকপাড়ায় শুটিং শুরু হয়ে যাক। নতুন নতুন নাটক আসুক ইউটিউবে। এই নাটকের সঙ্গে বাংলাদেশের অনেক কলাকুশলীর জীবনযাপন চলে। শুটিং বন্ধ থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি তাদের। তাই আমরা চাই নাটকপাড়া আবার সচল হোক।’

কে এস এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

অন্যদিকে কে এস এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধে ফেসবুক-ইউটিউবনির্ভর ব্যবসায়ে যে ক্ষতিটা হয়েছে সেটা তো আর এখন চাইলেও ফেরত পাওয়া সম্ভব না। এতে করে যে ভিউ, রিচ কমে গেছে সেটা যদি আবারও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে তাহলে হয়তো কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। এখন ইউটিউব চালু হওয়াতে আবারও সবকিছু সচল হয়ে ওঠার আশার আলো দেখতে পাচ্ছি, কিছুটা দুশ্চিন্তামুক্ত হলাম। দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠুক এটাই চাওয়া।’