কোটা সংস্কার অন্দোলন

১৫ দিন চিকিৎসাধীন থেকে গুলিবিদ্ধ যুবকের মৃত্যু, দাফন সম্পন্ন

অফিসে যাবার পথে গত ১৮ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন সেলিম তালুকদার রমজান। গত ১৫ দিন গুলির ক্ষত নিয়ে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালের বিছানায় জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

সেলিম তালুকদার রমজান নারায়ণগঞ্জের মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিলস লিমিটেডের সহকারী মার্চেন্ডাইজার পদে কর্মরত ছিলেন। সেলিম ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার পৌর শহরের টিএনটি এলাকার সুলতান তালুকদারের ছেলে।

নিহত সেলিমের বাবা সুলতান তালুকদার জানান, ঘটনার দিন বাড্ডার বাসা থেকে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে আমার ছেলে। এ সময় ওর মাথায়, বুকে ও পিঠে বেশ কয়েকটি গুলি লাগে। একটা গুলি ফুসফুসের মধ্যে গিয়ে আটকায়। গুলি লাগার পরে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে পরে ধানমন্ডির পপুলারে ওকে ভর্তি করা হয়। 

তিন বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে সেলিম তালুকদার ছিলেন মেঝো। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে লাশ নেয়া হয় বাড্ডা লিংক রোডের বাসায়। সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে শুক্রবার সকাল ১০টায় গ্রামের বাড়ি নলছিটিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে সেলিমের লাশ দাফন করা হয়। এর আগে সেলিমের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আনে।এ সময় তার আত্মীয় স্বজন ও সহপাঠীরা কান্না ভেঙ্গে পড়েন।

বিজিএমই ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে দুই বছর আগে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করে নারায়ণগঞ্জের এই নিটিং মিলে সহকারী মার্চচেন্ডাইজার পদে চাকরি শুরু করেন সেলিম।