চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে তৈরি হওয়া সংকট নিয়ে নানা পেশাজীবীর মানুষ কথা বলছেন। এ সমস্যার সমাধান করে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পক্ষে কথা বলছেন। অনেক জ্যেষ্ঠ শিল্পীরা মনে করছেন গণগ্রেপ্তার বন্ধ করে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা উচিত। সেই সঙ্গে যে প্রাণক্ষয় হয়েছে তার জন্যও শিল্পীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে তারা প্রতিক্রিয়ায় জানাচ্ছেন। এমনই এক প্রতিক্রিয়ায় দেশের অন্যতম নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ মনে করেন অবিলম্বে ধরপাকড় বন্ধ করে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত। তারা কী বলতে চাইছে, তাদের কথা শোনা উচিত।
দেশের কিংবদন্তি এই অভিনেতা আরও মনে করেন, শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, যারাই পথে নামছে তাদের ভেতরের এটা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। মামুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে বললেন, ‘এতগুলো প্রাণ ঝড়ে গেল। বিশেষ করে শিশু দুটির জন্য আমি রাতে ঘুমাতে পারি না। এটা আমার বাস্তব ব্যক্তিগত অবস্থান। কিন্তু এর বাইরেও যেটা ঘটছে, এটাকে কোটা সংস্কার আন্দোলন বলা যাবে না। এটা মানুষের অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। মানুষের বঞ্চনা, নানা ধরনের বঞ্চনা রয়েছে, নানা ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। এর বিরুদ্ধেই আসলেই এই প্রতিবাদ।’
এ আন্দোলনে এত প্রাণ সংশয়ের ঘটনা ঘটবে তিনি কল্পনাও করেননি। বললেন, ‘এই প্রতিবাদে যে এত প্রাণ ঝড়বে তা আমরা কল্পনা করতে পারিনি। এখনো ধরপাকড়, এখনো নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে। আমি মনে করি এটা বন্ধ হওয়া দরকার, অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।’
এ সমস্যার সমাধান রাজনৈতিকভাবে করতে হবে জানিয়ে এই নাট্যব্যক্তিত্ব বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এটা রাজনৈতিকভাবে সমাধান হওয়া জরুরি, পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী দিয়ে এর সমাধান হবে না। এই ক্ষোভ নিরসন হবে না। কথা শুনতে হবে, সংলাপ তৈরি করতে হবে। তরুণরা কী বলতে চাইছে তা শুনতে হবে, ব্যাখ্যা করতে হবে এবং এর মধ্য দিয়েই এর সমাধান হবে।’ এ আন্দোলনের পক্ষে যারাই কথা বলছেন তাদেরই রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি শিল্পীদেরকেও এমন ট্যাগ দিচ্ছে একপক্ষ। এর বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার ফার্মগেটে শিল্পীদের আয়োজনের কথা উল্লেখ করে মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি ফার্মগেটে শিল্পীদের আয়োজনে গিয়েছিলাম, সেখানে তো দেখেছি এরা কেউই পলিটিক্যাল না। কারোরই রাজনৈতিক পরিচয় নেই। তাহলে কেন এসব হচ্ছে, রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজে বের করার দরকার নেই।, সমস্যার সমাধান বের করার জন্য সবারই চেষ্টা করা উচিত।’