সরকারকে ক্ষমতায় রেখে চলমান সংকট সমাধান হবে না বলেন মনে করে বাম দলগুলো। তাদের মতে, যত দেরি হবে ততই ঘাড়ের ওপর চেপে বসবে ভয়াবহ দুঃশাসন। তাই ছাত্র-জনতাকে হত্যা ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনা রক্ষায় ব্যর্থতার দায় নিয়ে শেখ হাসিনা সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানায় দলগুলো।
আওয়ামী লীগ সরকারকে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ কয়েক দিনে সরকারের দানবীয় আক্রমণ প্রত্যক্ষ করেছে দেশের মানুষ। শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলন দমন করতে পত্রিকার খবর অনুযায়ী অন্তত ২১৩ জনকে হত্যা (আন্দোলনকারীদের দাবি ২৬৬), ৭ হাজারের বেশি আহত, ১২ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার, আড়াই লাখের মতো অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এই ধরনের রাষ্ট্রীয় দমনের চিত্র এই ভূ-খণ্ডের মানুষ পাকিস্তান আমলে এবং বাংলাদেশের গত ৫৩ বছরে আর দেখেনি।’
বিক্ষোভ দমনে কারফিউ জারি, সেনাবাহিনী নামানো, বিজিবি মোতায়েনে কথা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, হাজার হাজার রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস ছুড়ে এক নারকীয় কাণ্ড চালিয়েছে সরকার। এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করেও যখন ছাত্র-জনতাকে পিছু হটাতে পারেনি তখন ‘দেখা মাত্র গুলির’ ঘোষণা দিয়ে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তারা। আর এখন ‘ব্লক রেইড’ দিয়ে রাতে বাসা থেকে ছাত্র পরিচয় পেলেই নিয়ে যাচ্ছে। অবস্থা দেখে যে কেউ ধারণা করতে পারেন যে, দেশের জনগণের ওপর যেন বিদেশি দখলদার বাহিনী আক্রমণ ও অত্যাচার চালাচ্ছে।’
বাম দলগুলো বলেছে, ‘২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালে নিশি রাতের নির্বাচন আর ২০২৪ সালের ভোটারবিহীন আমি-ডামি নির্বাচনের কারণে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই। প্রশাসন, পুলিশ ও সামরিক বাহিনী দিয়ে টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করে এবার কারফিউ সরকারে পরিণত হয়েছে তারা।’
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে আছেন, বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নাসু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মাহবুব) আহ্বায়ক সন্তোষ গুপ্ত, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী; ফ্যাসিবাদী বিরোধী বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চার সভাপতি জাফর হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান প্রমুখ।