অসহযোগ আন্দোলনে কী চলবে, কী বন্ধ থাকবে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে আজ রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সর্বাত্মক অসহযোগে কী চলবে, কী চলবে না, তা জানানো হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে এ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে যা চালু, বন্ধ থাকবে, মানতে হবে কী কী নির্দেশনা তা জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

অসহযোগে যা যা চালু থাকবে

সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ এই কর্মসূচি ঘিরে কিছু জরুরি নির্দেশনা দেন। আসিফ মাহমুদ জানান, অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যেও হাসপাতাল, ওষুধের দোকান, জরুরি পরিবহন সেবা (ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহন), অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ফায়ার সার্ভিস, গণমাধ্যম, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহন, জরুরি ইন্টারনেট-সেবা, জরুরি ত্রাণসহায়তা ও এ খাতে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবহন সেবা চালু থাকবে।

অসহযোগে যা যা বন্ধ থাকবে

সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, অসহযোগ কর্মসূচির মধ্যে সব ধরনের সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত ও কলকারখানা বন্ধ থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিলাস দ্রব্যের দোকান, শো-রুম, বিপনি-বিতান, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকবে। দেশ থেকে যেন একটি টাকাও পাচার না হয়, এজন্য সব অফশোর ট্রানজেকশন বন্ধ থাকবে। সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। ব্যাংকগুলো বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি ব্যক্তিগত লেনদেনের জন্য প্রতি সপ্তাহের রোববার ব্যাংকগুলো খোলা থাকবে।

যা যা মেনে চলতে হবে

সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কোনো নাগরিক কোনো কর বা খাজনা দেবেন না। বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিলসহ কোনো ধরনের বিল পরিশোধ করবেন না।‘

তিনি আরও বলেন, ‘সব ধরনের সরকারি সভা-সেমিনার ও আয়োজন বর্জন করবেন। বন্দরের কর্মীরা কাজে যোগ দেবেন না। কোনো ধরনের পণ্য খালাস করবেন না। সব ধরনের সরকারি সভা-সেমিনার ও আয়োজন বর্জন করবেন। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা রুটিন দায়িত্ব ছাড়া কোনো ধরনের প্রটোকল ডিউটি, রায়ট ডিউটি ও প্রটেস্ট ডিউটিতে যাবেন না। শুধু থানা-পুলিশ নিয়মিত থানার রুটিন দায়িত্ব পালন করবে। বিজিবি ও নৌবাহিনী ছাড়া অন্যান্য বাহিনী ক্যান্টনমেন্টের বাইরে দায়িত্ব পালন করবে না। বিজিবি ও নৌবাহিনী ব্যারাক ও উপকূলীয় এলাকায় থাকবে।’

আসিফ আরও বলেন, ‘আমলারা সচিবালয়ে যাবেন না। জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ কার্যালয়ে যাবেন না।