সরকার পতনের এক দফা দাবিতে অসযহযোগ আন্দোলনের দিনে রাজধানী পুলিশ,সরকার সমর্থক ও আন্দোলকারীদের ব্যাপক সংগর্ষ হয়েছে। এই সময় রাজধানীর ধানমণ্ডি, কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটরের আল-বারাকা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে দেশীয় অস্ত্র রামদা, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ অনেককেই দেখা গেছে। তবে এসব অস্ত্রধারীদের ব্যাপারে নজরদারি নেই ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)। অভিযোগ পেলে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।
রবিবার রাত সারে দশটায় মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক জরুরি সংবাদ সন্মেলনে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। সেখানে এই অস্ত্রধারীদের ব্যাপারে সাংবাদিক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এটি আমাদের নজরে আসেনি। যদি অভিযোগ আসে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব। ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিএনপি, জামায়াত ও জঙ্গি গোষ্ঠি সহিংসতা চালাচ্ছে।
সহিংসতাকারীদের বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত আমাদের ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সারে তিনশত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তিনজন পুলিশ সদস্য নির্মমভাবে নিহত হয়েছে। আজকেও (রবিবার) সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানায় দায়িত্বরত ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যাকরা হয়েছে। গতকাল আমরা দেখেছি খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকায় একজন পুলিশ সদস্যকে সাপের মতো পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠি যে কার্যক্রম করছে এটিতে আমাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটি যথাযথভাবে করা হবে। আমরা এ পর্যন্ত যথেষ্ট সহনশীলতা প্রদর্শন করেছি। যথেষ্ট সংবেদনশীলতা প্রকাশ করেছি। আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণ কোন ছাত্রের বিরুদ্ধে নয়। কোন ছাত্রীর বিরুদ্ধে নয়। আমাদের ব্যবস্থাগ্রহণ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে, নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে, অগ্নিসংযোগকারীদের বিরুদ্ধে, পুলিশ হত্যাকারীর বিরুদ্ধে। তাদেরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না।
কারফিউয়ের নিয়মকানুন মেনে চলতে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন সারা বাংলাদেশে কারফিউ চলছে। ঢাকা মহানগরবাসীকে সবিনয়ে অনুরোধ জানাতে চাই, তারা যেন কারফিয়ের নিয়মকানুন মেনে চলে। কোন অবস্থাতেই আপনারা যেন ঘর থেকে বাইর না হন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও পুলিশকে সহযোগীতা করার জন্য নগরবাসীর প্রতি বিনিত অনুরোধ জানাচ্ছি।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নাশকতার করছে জঙ্গি গোষ্ঠি বিএনপি-জামায়াত। এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি, জামাত-শিবির গোষ্ঠি গতকাল থেকে আবারও ভয়াবহ নাশকতা শুরু করেছে। আজকে (রবিবার) তারা ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ঢাকা মহানগরীর ধানমন্ডি, সাইন্সল্যাব, শাহবাগ, প্রেসক্লাব, বাংলামোটর, মোহাম্মদপুর, কাজলা, উত্তরাসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ ও নজিরবিহীন হামলা চালায়।তারা রাজধানজ্র বিভিন্ন পয়েন্টে দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, কোকটেল বোমাসহ নিরীহ জনগণ ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়।