দেশে চলমান সংকটে তারকারা সামাজিক মাধ্যমে সরব রয়েছেন। প্রতিনিয়ত তারা কথা বলছেন, জানাচ্ছেন প্রতিক্রিয়া। এরমধ্যে কাল দুপুরে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই নিয়েও কথা বলেছেন তারকারা। জানিয়েছেন প্রতিবাদ। সবাই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ চান, চান শান্তি।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামাল ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ফেসবুকে লেখেন, ‘সবাই একসঙ্গে থাকলে মোবাইল ডাটা দিয়ে কী করব? যারা জানার তারা অলরেডি জানে মোবাইল ডাটা অফ করে কী করেন আপনারা।’
চারদিকে যখন একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটছিল সেই মুহূর্তে নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এসবকে থামানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সন্ত্রাস থামান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আপনাদের কাজ যারাই সন্ত্রাস করছে, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ান! তা সে যে পক্ষেরই হোক। যার যে মত, সে সেই মত প্রকাশ করবে, সমাবেশ করবে, মিছিল করবে। কিন্তু পিস্তল দিয়ে, শটগান দিয়ে কোন জনমত প্রকাশ করা হচ্ছে? কাল লাখ লাখ লোক সমাবেশ করল, দেশাত্মবোধক গান গাইল, আমরা তো তাদের কারও হাতে পিস্তল দূরের কথা, একটা লাঠিও দেখলাম না। আজ কেন এই সন্ত্রাস?
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত অভিনেত্রী শাবনূরের একটি সিনেমায় অভিনয় করার কথা ছিল। কিন্তু চলমান আন্দোলনের কারণে তার সিনেমার শুটিং বন্ধ। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে শাবনূর বলেন, এখন শুটিং করার অবস্থায় আমরা কেউ নেই। দেশের এই পরিস্থিতিতে কেউই শুটিং করতে চাইবেন না। আমি সব সময় দেশের খবর রাখছি। সহকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দেশে ফিরব। তারপর শুটিংয়ের জন্য নতুন করে শিডিউল করব।
নিজের অভিমত প্রকাশ করেছেন সাদিয়া জাহান প্রভাও। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কিছু না লিখলেও সাদিয়া জাহান প্রভা থ্রেডে বলেন, ‘যারা অন্যায় দেখে চুপ আছে, তাদের আপনি এক ধরনের কাওয়ার্ড বলতে পারেন। কিন্তু এখানে আরও অনেক ব্যাপার আছে।’
এই ধরনের মানুষেরা স্বার্থপর ও সুবিধাবাদী হয় বলে মনে করেন প্রভা। এদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বললেন, এরা সুবিধাবাদী, স্বার্থপর এবং নিম্নমানের মানুষ। এদের কখনো বিশ্বাস করবেন না, নিজের স্বার্থের জন্য এরা মানুষের ক্ষতি করতে দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে না।
অভিনেতা জিতু আহসানও নিজের ফেসবুকে চলমান সংকট নিয়ে কথা বলেছেন। জিতু বলেন, ‘আর কিছু পারি আর না পারি, আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া তো করতে পারি...’
অভিনেতা শামীম হাসান সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আর কতবার দেশের ইন্টারনেট বন্ধ করবেন? আর কতবার প্রমাণ করবেন নিজেদের? আপনারা ডিসগাস্টিং!’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আন্দোলনকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। ফারিণ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এতগুলো দিন পার হয়ে যাওয়ার পর আমার কিছু বলা বা না বলাতে কিছু আসে যায় না। তবু মনে হচ্ছে, আমার চুপ থাকাটাকে নিজের কাছে নিজের সহ্য হচ্ছে না।’
ফারিণ বলেন, ‘কারও কোনো সাহায্য-সহযোগিতা ছাড়া আপনারা সাধারণ মানুষ যারা এত সুন্দর করে দেশ সংস্কারের কাজ করে যাচ্ছেন, তারাই আসল সেলিব্রিটি। আমার মতো স্বার্থপর মানুষদের অনেক কিছু শেখার আছে আপনাদের থেকে। হয়তো একদিন আপনাদের মতো আমারও সাহস হবে, কোনো কিছু লিখতে-বলতে গিয়ে দশবার ভাবতে হবে না। এখনো অনেক কথা লিখতে গিয়ে বারবার মুছে ফেলছি। আপনাদের মনে কষ্ট দিয়েছি। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে চাই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হোক। কেউ পারলে আপনারাই পারবেন।'