ঘুম একটি মানুষকে সুস্থ রাখার অন্যতম উপাদান, ঘুমের মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিশ্রাম হয় যা সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি জোগায়। গবেষণায় দেখা যায়, সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। ভালো ঘুমের জন্য কয়েকটি জিনিস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেসব কারণে ভালো ঘুম হতে পারে তাহলো ঘুমের পরিবেশ
ভালো ঘুমের জন্য অন্যতম নিয়ামক হলো আরামদায়ক বালিশ ও বিছানা তাই এটা ব্যক্তির পছন্দ অনুযায়ী হতে হবে।
রুমের পরিবেশ যেন ঠান্ডা, অল্প আলো ও শব্দমুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ঘুমের সময়
ঘুমের জন্য প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানায় যেতে হবে এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করতে হবে।
গবেষকরা বলছেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘুমাতে যাওয়া ও ভোরে ঘুম থেকে ওঠা শরীরের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
স্বাস্থ্যসম্মত জীবনধারণ পদ্ধতি
নিয়মিত ব্যায়াম আপনার ভালো ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে। একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের জন্য সপ্তাহে ৫ দিন কমপক্ষে ৪৫ মি. ব্যায়াম করতে হবে, যেমন- হাঁটা, জগিং, সাইক্লিং, সাঁতার ইত্যাদি।
স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভ্যাস তৈরি করা যেমন, ঘুমানোর আগে ভারী খাবার না খাওয়া, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা।
বিছানায় যাওয়ার আগে ক্যাফেইন, কোমল পানীয় বা অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা।
ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে টেলিভিশন, কম্পিউটার ও মোবাইল স্ক্রিন দেখা বন্ধ করতে হবে।
মানসিক দুশ্চিন্তা কমানো
ইয়োগা, মেডিটেশন ও নিজ নিজ ধর্মীয় প্রার্থনা শরীর ও মনকে শান্ত করে হতাশা ও দুশ্চিন্তা কমিয়ে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।
শারীরিক অসুস্থতা
যদি ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে কারণ কিছু রোগের কারণে ঘুমাতে অসুবিধা হতে পারে যেমন - ইনসোমনিয়া, স্লিপ এপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হওয়া, রেস্টলেস লেগ সিনড্রোম ইত্যাদি, আছে কি না নির্ণয় করা।
যারা বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত (যেমন- ডায়াবেটিস , উচ্চরক্তচাপ, কিডনি রোগ, হাইপার বা হাইপোথাইরয়েডিজম, ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা ইত্যাদি। তাদের ব্যবহৃত কিছু ওষুধের কারণে ঘুমের বিঘ্ন ঘটতে পারে তাই এমনটা দেখা দিলে দ্রুত আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।