শেখ হাসিনার পতনের খবরে বরিশালে ছাত্রজনতার উল্লাসের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপির কালিবাড়ি রোডস্থ বাসভবনে সোমবার বিকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসকে যেতে বাধা দেন বিক্ষুব্ধরা। প্রায় ১ ঘণ্টা পর সন্ধ্যার দিকে দমকল বাহিনী গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরিশাল ফায়ার সাভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারি পরিচালক বেল্লাল হোসেন তিনটি মরদেহ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ওই বাড়ি থেকে ৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় মৃতদের পরিচয় সনাক্ত করা যাচ্ছে না।
কালিবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত বাস ভবনে থাকতেন আবুল হাসানাতের বড় ছেলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিক্ষুব্ধরা ওই বাড়িতে আগুন দেয়ার কিছুক্ষণ আগেও বাড়ির দ্বিতলার বারান্দায় তাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সাদিক নিরাপদে বাড়ি ছেড়েছেন কি না তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বরিশাল সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদেক আব্দুল্লাহর বাসভবনে বিকেলে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়। পরে সেখান থেকে আমরা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। তবে এখনও নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও আগুন দেয়া হয়েছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর এমপির ব্রাউন্ড কম্পাউন্ড সড়কের বীর উত্তম ভবনে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের এনএক্স ভবন কার্যালয়, আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন দেয়। ভাংচুর করেছে শাহান আরা বেগম পার্ক, বরিশাল ক্লাব, সার্কিট হাউজ সহ আ'লীগে নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বরিশাল প্রেসক্লাব ভাংচুর করা হয়েছে।