গুলি ছোড়েন উপজেলা চেয়ারম্যান, গণপিটুনিতে মৃত্যু

উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে খুলনার কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জিএম মহসিন রেজাসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বিকাল ৪টার দিকে কয়রা উপজেলা সদরে এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। নিহত অপরজন মহসিন রেজার গাড়িচালক আলমগীর। এছাড়া তাঁর দেহরক্ষী ইয়াকুবের অবস্থা সংকটাপন্ন। 

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম মোহসীন রেজা ও তাঁর গাড়িচালকের নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা কয়রা থানা ঘেরাও করে রেখেছিল বলেও জানান ওসি।

এদিকে খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান বলেন, কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম মোহসীন রেজা নিহত হয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তিনি জানান, এই মুহূর্তে তিনি তার পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবছেন।

জানা গেছে, দুপুর ৩টার দিকে সরকার পতনের দাবিতে কয়রা উপজেলা সদরে ছাত্র-জনতা মিছিল বের করে। এ সময় মিছিল থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাবুর কয়রার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে তারা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম মোহসীন রেজার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন থেকে গুলি নিক্ষেপ করা হয়।  এতে সাব্বির, আলতাফ, আবু মুছা, নূরুজ্জামানসহ ৭ জন আহত হয়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা জিএম মোহসীন রেজার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম মোহসীন রেজা, তার গাড়িচালক আলমগীর নিহত হন। গুরুত্বও আহত হয়েছেন দেহরক্ষী ইয়াকুব।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম মোহসীন রেজা, তার গাড়িচালক আলমগীর নিহত হয়েছেন। তার দেহরক্ষী ইয়াকুবের অবস্থা সংকটাপন্ন। তবে উত্তেজিত কয়রা থানা ঘেরাও করে রাখার কারণে ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। তিনি বলেন, এখনো আমরা অবরুদ্ধ রয়েছি।

এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতা গতকাল সোমবার খুলনা মহানগরীতে সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপির বাসভবন, খুলনা বেতার ভবন, মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, জেলা পরিষদ ভবন, খুলনা প্রেসক্লাব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের দখলকৃত পেট্রোল পাম্প, এস এম কামাল হোসেনের নগরীর খালিশপুরের বাসভবন, দৈনিক দেশ সংযোগ কার্যালয় এবং নগরীর অধিকাংশ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ অর্ধশত প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।