হামলা আগুনের পর শূন্য থানা ফাঁড়ি

হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের পর নগরীর সব থানা ভবন ও ফাঁড়ি এখন পুলিশশূন্য। শুধু থানা ভবন নয়, সংলগ্ন পুলিশ সদস্যদের মেস ও আবাসিক বাড়িও কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে।

গত সোমবার বেলা ৩টার দিকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০-১১টা পর্যন্ত নগরীর ১৬টি থানার মধ্যে অন্তত ৮টি থানায় ব্যাপক তা-ব চালায় দুর্বৃত্তরা। তারা কমবেশি ওই ৮টি থানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে।

কয়েকটি থানা থেকে অস্ত্র লুট করে। হামলা হয়েছে কেন্দ্রীয় কারাগারেও।

গতকাল মঙ্গলবার নগর-পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আবদুল মান্নান মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুর্বৃত্তদের হামলায় অন্তত ৩০০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। কিছু থানা থেকে দুর্বৃত্তরা অস্ত্র লুট করেছে বলে জানিয়ে সিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ত্র লুট হয়েছে। তবে কয়টি, তা এখনো জানা যায়নি।’ নগরের প্রায় সব কটি থানা-পুলিশ শূন্য হয়ে পড়ার বিষয়ে তিনি জানান, থানায় থানায় ব্যাপক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের পর পুলিশ সদস্যরা ট্রমার মধ্যে আছেন। তবে শিগগির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে, আশা সিএমপির অন্যতম শীর্ষ এই কর্মকর্তার।

জানা গেছে, নগরীর পুলিশের চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, ইপিজেড, কোতোয়ালি, আকবর শাহ, বন্দর, ডবলমুরিং ও পাহাড়তলী থানায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। নগরীর দামপাড়ার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটক ভেঙে হামলাকারীরা ঢোকার চেষ্টা করে। তবে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গতকাল বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সরেজমিন দেখা যায়, নগরের পাঁচলাইশ, চকবাজার থানা ভবনে তালা ঝুলছে। কোনো পুলিশ সদস্য চোখে পড়েনি। পাঁচলাইশ থানা ভবনের ঢোকার মূল কলাপসিবল গেটে ঝুলছে তালা। বাইরের লোহার ফটকটি বন্ধ। তবে খোলা আছে পকেট গেট। ফটকটির সামনে চেয়ার নিয়ে বসে আছেন ১০-১২ জন যুবক। পরিচয় জানতে চাইলে তাদের কয়েকজন নিজেদের বিএনপি নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেন।

চকবাজার থানা ভবনে গিয়ে দেখা গেছে একই দৃশ্য। থানা ভবনের মূল ফটকটি বন্ধ। থানা ভবনের আশপাশে থাকা পুলিশ সদস্যদের আবাসিক ও অনাবাসিক তিনটি ভবনে কেউ নেই। ভবনগুলোর নিচে সারি সারি পড়ে আছে ট্রাফিক সার্জেন্টদের মোটরবাইক। এ ছাড়া কোতোয়ালি, ডবলমুরিং থানায় গিয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ক্ষত দেখা গেছে। এই দুটি থানা ভবনেও কোনো পুলিশ সদস্য দেখা যায়নি।

পতেঙ্গা, কোতোয়ালি, পাহাড়তলী ও ডবলমুরিং সেনাবাহিনী পাহারা দিতে দেখা গেছে।

কোতোয়ালি থানার তিনতলা ভবনের কক্ষে কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় থানা প্রাঙ্গণে রাখা সব গাড়ি। অক্সিজেন মোড়ের পুলিশ ফাঁড়িতেও আগুন দেওয়া হয়।

পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, কর্ণফুলী, সদরঘাট, খুলশী, চকবাজার, বায়েজিদ বোস্তামী ও হালিশহর থানায় কোনো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়নি। ষোলশহর ২ নম্বর গেট, অক্সিজেন মোড়, নিউ মার্কেট এলাকায় কিছু তরুণকে ট্রাফিক সামলাতে দেখা যায়।

সিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা ব্যারাকেই থাকবেন।