‘বিজয় যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়’ দেশবাসীকে ড. ইউনূস

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমি সাহসী ছাত্রদের অভিনন্দন জানাই যারা আমাদের দ্বিতীয় বিজয় দিবসকে বাস্তবে রূপ দিতে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং অভিনন্দন জানাই দেশের আপামর জনসাধারণকে যারা ছাত্রদের এই আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন। আসুন আমরা আমাদের এই নতুন বিজয়ের সর্বোত্তম সদ্ব্যব্যবহার নিশ্চিত করি।’

বুধবার (৭ আগস্ট) ইউনূস সেন্টারের ফেসবুক পেজে দেশবাসীর উদ্দেশে ড. ইউনূসের এই বক্তব্য পোস্ট করা হয়।

বক্তব্যে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের কোনো প্রকার ভুলের কারণে আমাদের এই বিজয় যেন হাতছাড়া হয়ে না যায়। আমি সকলকে বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্ত থাকতে এবং সব ধরনের সহিংসা এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বিনষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছি এবং ছাত্র ও দলমত নির্বিশেষে সকলকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রিয় এই সুন্দর ও বিপুল সম্ভাবনাপূর্ণ দেশটিকে আমাদের নিজেদের ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা এবং একে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন আমাদের প্রধান কাজ। একটি নতুন পৃথিবী বিনির্মাণে আমাদের তরুণরা প্রস্তুত। অকারণ সহিংসতা করে এই সুযোগটি আমরা হারাতে পারি না। সহিংসতা আমাদের সকলেরই শত্রু। অনুগ্রহ করে শত্রু সৃষ্টি করবেন না। সকলে শান্ত থাকুন এবং দেশ পুনর্গঠনে এগিয়ে আসুন।

অনুগ্রহ করে নিজে শান্ত থাকুন এবং আপনার আশেপাশের সকলকে শান্ত থাকতে সহায়তা করুন।’

 এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে দেশে আসার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। এর আগে মঙ্গলবার তাকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

এদিন সন্ধ্যার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১৩ সদস্যের একটি দল। এর আগে সোমবার কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।