নিখোঁজ বহু পুলিশ সদস্য থানায় নথি পুড়ে ছাই

রাজধানীর ভাটারা থানা ভবনে এখন পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় লোকজন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অধীন এই থানায় গত সোমবার বিকেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মামলার কপিসহ সব নথি ও জিনিসপত্র।

গত বুধবার ওই থানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সামনের সড়কে পোড়া ছাইয়ের পুরু আস্তরণ। বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে পুলিশের ক্যাপ, জামা, জুতা, পুড়ে যাওয়া মামলার কপি। পোড়া যানবাহনের কাঠামো। থানার ভেতরে প্রবেশ করতে না পেরে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখা যায় কক্ষগুলোয় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া জিনিসপত্র।

একইভাবে স্থানীয় লোকজনের পাহারায় রয়েছে বাড্ডা থানাও। থানার ভেতরে কোনো মালামাল নেই। আসবাবপত্র, অস্ত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মামলার নথিসহ জরুরি কাগজপত্র উধাও। ভেতরের মেসেও দেওয়া হয়েছে আগুন।

শুধু এই দুই থানাই নয়, ডিএমপির ৫০টি থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সব থানায়ই মামলার কপিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট হয়েছে। থানাগুলোতে দায়িত্ব পালন করা অনেক পুলিশ সদস্যদের খোঁজ মিলছে না।

গত সোম ও মঙ্গলবার ডিএমপিসহ সারা দেশের প্রায় সব থানাই আক্রান্ত হয়। হত্যা করা হয় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে। বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ১২ পুলিশ সদস্য ও এক আনসার সদস্যের মরদেহ আনা হয়। ওইদিন নবনিযুক্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলাম সব পুলিশ সদস্যদের বৃহস্পতিবার (গতকাল) সন্ধ্যার মধ্যে যোগদানের নির্দেশনা দেন।

ডিএমপি গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) কে এন রায় নিয়তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, কতগুলো থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে এর সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকার বেশিরভাগ থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সব কিছু। এমন পরিস্থিতিতে থানাগুলোয় কোনো কার্যক্রম চলছে না।

এখনো নিখোঁজ বহু পুলিশ সদস্য : থানায় অগ্নিসংযোগ, হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় এখনো বহু পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। মারা যাওয়ার সংখ্যাও কম নয়। যদিও নিহত ও নিখোঁজ পুলিশ সদস্যের তথ্য পুরোপুরি সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ।

গতকাল রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে দায়িত্বরত পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) নাম প্রকাশ না করে দেশ রূপান্তরকে জানান, এখন পর্যন্ত রাজারবাগে আসা ২৭ পুলিশ সদস্যের মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজারবাগে এখনো অনেক লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে পড়ে আছে। তাদের ডিএনএ টেস্ট ও ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে শনাক্তের কাজ চলছে। তবে বোঝার উপায় নেই যে, এটা পুলিশের না, অন্য কারও মরদেহ। গত বুধবার রাতে ১১টি লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি আসে। প্রতিটি গাড়িতে তিনটি করে লাশ রয়েছে। এ ছাড়া রাজারবাগে অনেক লাশ রয়েছে যেগুলো পুলিশ হাসপাতালের মর্গে এবং কিছু এসি চালিয়ে ঠা-া ঘরে আপাতত রাখা হয়েছে। তবে লাশের নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, রাজারবাগে রিজার্ভ ফোর্সের অস্ত্র ইস্যু করা হয়। সেখানে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ইস্যু করা ৩৪০টি অস্ত্র এখনো ফেরত আসেনি। অস্ত্রগুলো তো কারও কারও নামে (পুলিশ কর্মকর্তা) ইস্যু করা হয়, তারাও ফিরে আসেনি।