চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীরা বিদ্রোহ করেছে। তাদের বিক্ষোভ দমনে কারারক্ষীরা অন্তত ৩০০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েছে। শুক্রবার (৯ আগস্ট) বেলা পৌনে ২টার দিকে নগরের লালদিঘী এলাকায় অবস্থিত কারাগারটিতে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বেলা ৩টার দিকে সেনাবাহিনী ও বিজিবি গিয়ে কারা অভ্যন্তরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর আগে গোলাগুলির ঘটনায় রুবেল (৩৫) নামে একজন বন্দী আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত এই বন্দীর চোখে গুলি লেগেছে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে বলে চমেক হাসপাতালের একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আখেরুল ইসলাম শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪১ মিনিটের দিকে দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বেশ কিছু বন্দী জামিন পেয়েছেন। যাচাই-বাছাই করে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাদের জামিনে মুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় কারাগারে বন্দী থাকা সব হাজতীর মুক্তি দিতে হবে বলে দাবি করেন। এ সময় কারা কর্তৃপক্ষ তাদের আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জামিন নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে হঠাৎ বিক্ষোভ শুরু করলে পাগলা ঘণ্টা বাজায় কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারারক্ষীরা কয়েকশ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় কিছু কারারক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানান এই কারা কর্মকর্তা।
সূত্র জানায়, খবর দেওয়ার পর বেলা ৩টা ৮ মিনিটের দিকে সেনা ও বিজিবি’র টিম কারাগারে পৌঁছায়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। কারাগারের উত্তর পাশে হযরত শাহ আমানত (রহ.) মাজার জিয়ারতে আসেন বক্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, মাজার সংলগ্ন মসজিদে তিনি শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেন। মুনাজাত শেষে হঠাৎ কারাগারের ভেতরে গুলির শব্দ শুনতে পান। এ সময় আশপাশের লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে ছোটাছুটি করতে থাকেন। বেলা পৌনে ২টা থেকে শুরু হয়ে ২টা ৪০ মিনিটে শেষ হয় গোলাগুলি। এ সময় কারাগারের ভেতর থেকে বন্দীদের শোর-চিৎকার শোনা গেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কারা সীমানায় ফটক এবং পকেট গেইটে তালা ঝুলছে। অদূরে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত কারারক্ষীরা সতর্ক অবস্থানে আছেন। কারাগারের প্রবেশের মূল ফটকের বাইরে সেনা ও বিজিবি সদস্যদের দেখা গেছে। বিকেল পৌনে ৪টার দিকে কারাগার থেকে সেনা ও বিজিবি সদস্যদের বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি পিকআপে করে আহত এক ব্যক্তিকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারাগারের ফটক এবং বাইরে সেনাবাহিনীর সদস্যদের সতর্ক পাহারা দিতে দেখা যায়।
এদিকে গোলাগুলিতে ঠিক কতজন আহত হয়েছেন তা কারা কর্তৃপক্ষ থেকে আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। তবে বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে কিছু কারারক্ষী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিনিয়র জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন।