গুরুদাসপুরে আনন্দ সিনেপ্লেক্স ভাঙচুর ও লুটপাট

নাটোরের গুরুদাসপুরে ‘আনন্দ সিনেপ্লেক্সে’ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হলের ভেতরে থাকা দুটি সার্ভার, দুটি প্রজেক্টর, ফ্যান, সাউন্ড সিস্টেমসহ আসবাবপত্র লুটপাট করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পৌর সদরের চাচঁকৈড় গিয়াসের মোড়ে এ তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা।  

রাতে সিনেপ্লেক্স রক্ষায় ‘জাজ মাল্টিমিডিয়ার’ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে সবার সহযোগিতা চাওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, ‘আনন্দ সিনেপ্লেক্স গুরুদাসপুর নাটোর সিনেমা হলটি ভাঙচুর চলছে। সবাইকে হলটি রক্ষার অনুরোধ জানাচ্ছি। এমনিতেই চলচ্চিত্রের অবস্থা খারাপ। একের পর এক সিনেমা হল ধ্বংস করা হচ্ছে। কারা করছে সিনেমা হল ধ্বংস? কি চাচ্ছে তারা? আমরা কি এমন স্বাধীনতা, এমন দেশ চেয়েছিলাম?’ এ পেইজে গত কয়েক দিনের যেসব জায়গায় সিনেমা হল ভাঙচুর লুটপাট হয়েছে সেগুলোও উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে আনন্দ সিনেপ্লেক্সের পাশে কয়েকজনকে ঘুরতে দেখা যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গেটের তালা ভেঙে সিনেমা হলের ভেতরে প্রবেশ করে তারা। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ধ্বংস করতে থাকে। পরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রজেক্টটরসহ সিনেপ্লেক্সে থাকা সব মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে চলে যায়। দুই ঘণ্টা ব্যাপী চলে এই তাণ্ডব। 

স্থানীয় যুবক নাইম হোসেন জানান, নাটোর জেলায় একমাত্র সিনেমা হল আনন্দ সিনেপ্লেক্স। একে ঘিরে কিছু মানুষেরও জীবিকার পথ হয়েছিল। কিন্তু হলটি এমনভাবে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে, যার প্রভাব থাকবে দীর্ঘ দিন। 

আনন্দ সিনেপ্লেক্সের মালিক মো. আনিসুর রহমান বলেন, আমার সঙ্গে কারও দ্বন্দ্ব নাই। রাজনীতিও করি না। এরপরও কেন সিনেপ্লেক্সে হামলা চালানো হলো। প্রশাসনকে জানিয়েছি। সহযোগিতা পাইনি। স্থানীয়রাও এগিয়ে আসেনি। ভেতরে সবকিছু ভেঙে তছনছ ও লুটপাট করা হলো। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সিনেপ্লেক্সটি করেছি। ভাঙচুর লুটপাটে ৩০ লাখ টাকার মালপত্র লুট ও নষ্ট হয়েছে। এ ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠব। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করেছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উজ্জল হোসেন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতিতে আমরা নিজেরাই আতঙ্কে আছি। এর মধ্যে পুলিশের কর্মবিরতি চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।