ঢাবি সাদা দলের বিবৃতি

অন্তর্বর্তী সরকারের শপথে দেশে সরকারহীনতা দূর

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের শিক্ষকরা। গতকাল শুক্রবার সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান ও অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম এক যৌথ বিবৃতিতে জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ছাত্র-শিক্ষক ও জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তার দেশ ছেড়ে পলায়নের ফলে দেশ যে সরকারবিহীন হয়ে পড়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তা পূরণ হওয়ায় আমরা আনন্দিত।’

বাংলাদেশ এখন একটি চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে উল্লেখ করে সাদা দলের শিক্ষকরা বলছেন, ‘এ সময়ে দায়িত্বভার গ্রহণকারী সরকারের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ আছে। বিগত ১৫ বছরে স্বৈরাচারী সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলেছে। কেবল ভোটের অধিকার নয়, মানুষের বাকস্বাধীনতাও কেড়ে নিয়েছে। সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে চরম সংকটে ফেলে দিয়েছে।’

‘নগ্ন দলীয়করণের মাধ্যমে’ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, ‘বারবার কারিকুলাম পরিবর্তন এবং নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চরম নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় নতুন সরকার প্রাধান্য নির্ধারণের মাধ্যমে যথাযথ পরিকল্পনা নিয়ে এসব সমস্যা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া এ দেশের মানুষের পরম কাক্সিক্ষত একটি বিষয় উল্লেখ করে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ দেশের মানুষ এজন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। এতে প্রাণ দিয়েছেন অনেকেই। গুম হওয়া ছাড়াও স্বৈরশাসক দ্বারা নিপীড়ন-নির্যাতন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। সর্বশেষ স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানে শতশত ছাত্র-জনতা শাহাদাতবরণ করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এ আন্দোলনে সব শহীদের হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের আমরা দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

তারা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারকে সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে শিক্ষকরা বলছেন, ‘একই সঙ্গে আমরা আশা করি, শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ ও জনমানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।