নারীবান্ধব বৈষম্যমুক্ত দেশ চাই

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ থেকে শুরু করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শোবিজের শিল্পী, নির্মাতারাও। এই সরকারের অধীনে সুন্দর একটি দেশ দেখতে চান বলে জানান অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরুল নূর

একজন শিল্পী হয়ে ছাত্রদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

শিল্পীর আগে আমি একজন মানুষ, একজন মা। অবশ্যই শিল্পী হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু তার আগে একজন মানুষ হিসেবে। যেভাবে রাষ্ট্র তার জনতার ওপরে গুলি চালাচ্ছিল নির্বিচারে তা মানুষ হিসেবে সহ্য করার ক্ষমতা আমার ছিল না। আমি যেহেতু একজন সন্তানের মা, রিয়ার মৃত্যুর কথাটা আমাকে বারবার ভাবিয়েছে। বাসার ছাদে খেলতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হতে হয়েছে তাকে। আসলে আমরা কোথায় নিরাপদ? এই জায়গা থেকে আন্দোলনে যাওয়ার অভিজ্ঞতা একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এত বছর যে ভয়-ভীতি নিয়ে বেঁচেছিলাম, ওদের সঙ্গে মিশে ওদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই ভয়-ভীতি থেকে বের হতে পেরেছি। আরও জোরালোভাবে প্রতিবাদ করতে শিখেছি। তাদের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ। তাদের সাহসই আমাকে সাহস জুগিয়েছে। এ আন্দোলনে তারা যে সফলতা অর্জন করেছে এর পুরো কৃতিত্বটা আসলে ছাত্রছাত্রীদেরই। তাদের রূপরেখায় আমাদের দেশ পৃথিবীর বুকে জ¦লজ¦ল করে উঠবে এই প্রত্যাশা।

নতুন দেশকে আপনি কীভাবে দেখতে চান?

নতুন দেশকে আমি নারীবান্ধব বৈষম্যমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দেখতে চাই।

শোবিজ ইন্ডাস্ট্রিতে কী কী সংস্কারের প্রয়োজন আছে বলে আপনি মনে করেন?

শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির অনেক কিছু সংস্কার করা লাগবে। কারণ, সরকারের প্রত্যেকটা সিস্টেমের মতো আমাদের ইন্ডাস্ট্রির অনেক জায়গায় অনেক পচন ধরেছে। এই জায়গাগুলো ঠিক করতে হবে। আমি স্পেসিফিকভাবে এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। এটুকু বলতে পারি এখানে প্রচন্ড দুর্নীতি আছে, সিন্ডিকেট আছে, স্বৈরাচারী অভিনয়শিল্পী আছে। আমি মনে করি সেই স্বৈরাচারী আচরণ থেকে অভিনয়শিল্পীদের মুক্ত হতে হবে। শুধু অভিনয়শিল্পীই নয়, পরিচালক, প্রযোজকদেরও। 

অনেকেই বলছেন, শিল্পাঙ্গনকে প্রতিহিংসা এবং সিন্ডিকেট মুক্ত দেখতে চান। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

শুধু শিল্পাঙ্গন না। পুরো দেশকেই আমি প্রতিহিংসা এবং সিন্ডিকেট মুক্ত দেখতে চাই। প্রতিহিংসার রাজনীতি আসলে বন্ধ করতে হবে, এটা আমার কাছে মূল ফোকাসের জায়গা। জানি না সিন্ডিকেট এত সহজে ভাঙা যাবে কিনা। সিন্ডিকেট না থাকাটাই সবচেয়ে ভালো। আর অবশ্যই স্বৈরাচারী শিল্পীদের তাদের জায়গা থেকে সরে আসতে হবে বলে আমি মনে করি।