অবশেষে পদোন্নতি পেলেন ১৭৩ চিকিৎসক

দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ১৭৩ চিকিৎসক অবশেষে পদোন্নতি পেলেন। ৩৭ বিভাগ ও সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের এসব চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

গত ৮ আগস্ট এই অফিস আদেশ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল হান্নান। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এসব চিকিৎসককে নিজ নিজ বিভাগে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে ও পদোন্নতির তালিকা থেকে জানা গেছে, পদোন্নতি পাওয়া চিকিৎসকরা সবাই বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত চিকিৎসক। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায় ড্যাব বিএসএমএমইউ শাখার সভাপতি ও মহাসচিবের নামও রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসকরা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা অফিসে আসছেন না। বর্তমান প্রশাসনের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসক। এমনকি আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) চিকিৎসকরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছেন না। এমন অবস্থায় নিজ বাসভবনে বসেই এই অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

নিয়োগের শর্তে বলা হয়েছে, ‘সিন্ডিকেট কর্র্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে এই নিয়োগ ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং যার যার প্রাপ্যতা অনুযায়ী বেতন স্কেল ও গ্রেড নির্ধারণ করা হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে ড্যাবের চাপের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ এই পদোন্নতি দিতে বাধ্য হয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ চাইছে এসব পদোন্নতির মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ড্যাব বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মহাসচিব ডা. শেখ ফরহাদ দেশ রূপান্তরকে জানান, তার সঙ্গে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কথা হয়েছে। তারা ড্যাবকে পরিস্থিতি শান্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আশ্বাস দিয়েছেন।

সেদিন ড্যাব মহাসচিব আরও জানান, তাদের দুই শতাধিক চিকিৎসক পদোন্নতিবঞ্চিত রয়েছেন। গত ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তারা পদোন্নতি পাচ্ছেন না। তাদের জুনিয়র ও ব্যাচের সহপাঠীরা এখন সিনিয়র ও অধ্যাপক হয়ে গেছেন।

এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদোন্নতিবঞ্চিতদের পদোন্নতি দিলেন।

পদোন্নতি তালিকায় দেখা গেছে, পদোন্নতিপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা কমপক্ষে ১৫ বছর আগে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্থাৎ এমএস ও এমডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্বশেষ ২০২২ সালে এমএস ও এমডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন এমন চিকিৎসকও রয়েছেন।

পদোন্নতির তালিকায় দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি পদোন্নতি পেয়েছেন অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের ২৪ জন, অর্থপেডিক্স সার্জারি বিভাগের ১৬ জন ও কার্ডিওলজি বিভাগের ১৫ জন।

এ ছাড়া ইউরোলজি বিভাগের ৭ জন, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের ৯ জনসহ মোট ৩৭ বিভাগের চিকিৎসকদের এই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসকও পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই পদোন্নতি তাদের প্রাপ্য ছিল। রাজনীতি ও ভিন্নমতের কারণে তারা এতদিন এই পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন।