ভোক্তা অধিকারের বিজ্ঞপ্তি

ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিত্যপণ্যের মূল্যতালিকা সরকারের নয় বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি সরকার নির্ধারিত উল্লেখ করে নিত্যপণ্যের একটি মূল্যতালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যাতে দেখা যায়, নিত্যপণ্যগুলোর দাম বর্তমান বাজারমূল্যের চেয়ে প্রায় অর্ধেক; যা অনেক ভোক্তার মধ্যে স্বস্তি ছড়ায়।

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার কর্র্তৃক বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত একটি বাজার মূল্যতালিকা প্রচার করা হচ্ছে, যা অধিদপ্তরের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সরকার কর্র্তৃক বর্ণিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং করা হয়; যেন পণ্যের সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক থাকে। তা ছাড়া সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য ভোক্তা সাধারণের প্রতি অনুরোধ করা হলো।’

গত এক বছর দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি ছিল দুই অঙ্কের ঘরে। তা ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করেন বহু প্রবাসী। এতে এক মাসের ব্যবধানে ২৪ শতাংশ কমে জুলাই মাসে মাত্র ১৯১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে; যা দীর্ঘদিনের ডলারসংকটকে আরও তীব্রতর করেছে। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতি অনেকটাই টালমাটাল। যার প্রভাব ইতিমধ্যে বাজারে দেখা যাচ্ছে।

অবশ্য বাজারে আসা ভোক্তারা বলছেন, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এবং সড়ক ও হাটের চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকা অনুযায়ীই বাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি করা সম্ভব।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ভোক্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সবজির সবই আমাদের দেশে উৎপাদন হয়। নিয়মের মধ্যে বাণিজ্য হলে সব ধরনের পণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু চাঁদাবাজির কারণে বাজারে ভোগ্যপণ্যের মূল্যে প্রভাব পড়ে।’

ছড়িয়ে পড়া তালিকায় দেখা যায়, প্রতি কেজি আলুর মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৪০ টাকা; যা আলুর বর্তমান বাজারমূল্য থেকে প্রায় ২০ টাকা কম। একইভাবে কেজিতে ৫০ টাকা কমে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ধরা হয়েছে ৭০ টাকা, মোটা লবণ ৩০ টাকা, ভোজ্যতেল ১৪০ টাকা, গরুর মাংস ৬০০ টাকা, খাসির মাংস ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৪০ ও প্রতি লিটার দুধের দাম ধরা হয়েছে মাত্র ৬০ টাকা।

কিন্তু বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছড়িয়ে পড়া মূল্যতালিকার দ্বিগুণ দামে সব ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০, আলু ৬০, ভোজ্যতেল ১৫৫, গরুর মাংস ৭৮০-৮০০, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ এবং ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়।