বিটিআরসির ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত, চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি

অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তারা হলেন প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক ও চেয়ারম্যানের পিএস (একান্ত সচিব) আমজাদ হোসেন নিপু এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স (ইঅ্যান্ডও) বিভাগের উপপরিচালক মাহদী আহমেদ।

এদিকে বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দীন আহমেদসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে আজ রবিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশনের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। বিক্ষোভকারীরা বৈষম্য ও দুর্নীতি করা বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চান। তারা বলছেন, কোনো লেজুড়বৃত্তি, সিন্ডিকেট চলবে না।

এ সময় তারা অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিটিআরসিতে দলীয়করণ ও দুর্নীতি করার অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যায় ওই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তবে আন্দোলনকারীদের দাবি অনুযায়ী বিটিআরসি চেয়ারম্যানের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও আসেনি পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত। এসব বিষয়ে জানতে বিটিআরসি চেয়ারম্যানের দুটি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

রবিবার বিটিআরসি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ এবং তার একান্ত সচিব আমজাদ অফিসে ছিলেন না। তবে উপপরিচালক মাহদীকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ রাখেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সন্ধ্যায় দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

কমিশনের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক আফতাব মো. রাশেদুল ওয়াদুদ স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, অসাধু সিন্ডিকেটে জড়িত হয়ে দুর্নীতি করেছেন এমন খবর বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সময় তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিপীড়ন করেছেন। এসব অভিযোগে এই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

এদিকে রবিবার ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল হক মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন। কমিশনার দেলোয়ার হোসাইন অফিসে ছিলেন না। তবে অন্য দুই কমিশনার প্রকৌশলী রিয়াজ আহমেদ (স্পেকট্রাম) এবং ড. মুশফিক মান্না চৌধুরী (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) কমিশনে উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভকারীরা জানান, চেয়ারম্যান এবং তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আমজাদ হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিটিআরসিতে নিয়োগ পান এবং পরবর্তীতে বিটিআরসিতেও ব্যাপক দলীয়করণ এবং অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন। এসব কাজে তাদের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন চেয়ারম্যানের নিয়ন্ত্রণাধীন ইঅ্যান্ডও বিভাগের উপপরিচালক মাহদী আহমেদ।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, বিটিআরসির বর্তমান চেয়ারম্যান বুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ব্যাপক দুর্নীতি, দলীয়করণ এবং স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। তার কারণে অনেক মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী বঞ্চিত হয়েছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আমজাদ হোসেন নিপু দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘চাকরিক্ষেত্রে আমি কখনই দলীয় প্রভাব দেখাইনি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সবগুলো মিথ্যে। বিটিআরসির কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি অভিযোগ রয়েছে। তারাই মূলত আমার পেছনে লেগেছে নিজেদের অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করতে। তাছাড়া অনেকের অন্যায় আবদার পূরণ না করার কারণেও অনেকে ক্ষিপ্ত হয়েছেন আমার ওপর। আশা করি বৈষম্যবিরোধী এই সরকারের আমলে ন্যয়বিচার পাব আমি।’ তবে মাহদী আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।