‘স্বাধীন দেশে হিন্দুরা নির্যাতিত’ এমন প্লেকার্ড নিয়ে শাহবাগ চত্বরে অংশ নিয়েছিলেন পরশুরাম উপজেলা ছাত্রলীগ সদস্য প্রসেনজিৎ ও কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য আশীষ চক্রবর্তী। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন পরশুরাম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতারা।
উপজেলা শ্রী শ্রী মাতঙ্গীদেবী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নেপাল সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর পরশুরামে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো মানুষ, মন্দির এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা হয়নি। উপজেলায় ৭টি মন্দির রয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা হয়নি। বরং জামায়াত, শিবির এবং উপজেলা বিএনপির নেতারা সমস্যা মনে করলে পাহারা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
রবিবার (১১ আগস্ট) বিকাল ৫টায় শ্রী শ্রী মাতঙ্গীদেবী কেন্দ্রীয় মন্দিরে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, পরশুরাম উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও নিরাপদ রয়েছে।
এ সময় উপজেলা বিএনপি নেতা আবদুল হালিম জানান, ‘পরশুরামের হিন্দু সম্প্রদায়ের দুজন ছাত্রলীগ নেতা শাহবাগে গিয়ে প্লেকার্ড প্রদর্শন করে তাদের বাড়িঘর, মন্দির এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে বিচারের দাবি জানাচ্ছে। অথচ পরশুরামে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা এবং তাদের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোনো ভাঙচুর হয়নি। আমরা পরশুরাম উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরশুরাম উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সাহা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হালিম মাকসুদ, পৌর বিএনপির আহবায়ক কাজী ইউসুফ মাহফুজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক শামসুল আলম শাকিল, যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম, আবুল খায়ের লিটন, আতহার হোসেন পাপরুল, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা মনতোষ বিশ্বাস, অধ্যাপক বাবুল সাহা প্রমুখ।