মসজিদ-মন্দির-মাজারে হামলা, স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল চাইল ইসলামী ফ্রন্ট

শতাধিক শিক্ষার্থীর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মহাবিজয়কে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট নেতারা  বলছেন, ‘একটি বিশেষ মহল মসজিদ-মন্দির-মাজার-মাদ্রাসাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। এদেশে ইসলাম প্রচারক   আল্লাহর অলিদের মাজার ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে চিহ্নিত জঙ্গিগোষ্ঠী।’

গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন ও স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানান নেতারা। সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনের দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এ দাবি জানান।

নগরীর মোমিন রোডের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মতিন বলেন, ‘বিপ্লবী ছাত্রদের  রক্তের বিনিময়ে সরকারের পতনের পর নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠিত  হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা করা এ সরকারকে অভিনন্দন জানাচ্ছে এবং সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এ মহাবিজয় বিতর্কিত করার জন্য একটা মহল নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য মাজার-মসজিদে হামলা করেছে চিহ্নিতমহল। চট্টগ্রামের বিভিন্ন মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদে নিয়োগ করা আহলে সুন্নাত মতাদর্শী খতিব ইমামদের বিনা কারণে মসজিদে নামাজ পড়াতে দিচ্ছে না এ মহল। স্বাধীন বাংলাদেশে কারা এ বিভেদ সৃষ্টি করছে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উসকানি তৈরি করছে তা খতিয়ে দেখে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দলের মহাসচিব স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামী  ছাত্রসেনার নেতাকর্মীরা জানবাজি রেখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেয়ার কারণে হামলার শিকার হয়েছে অনেক সেনাকর্মী ও নিরীহ জনগণ।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের বিচার, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ১১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শাহাদাতবরণ করা বীর শহীদদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন পূর্বক প্রত্যেকের পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং প্রতিটি শহীদ পরিবার থেকে ন্যুনতম একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা,  মাজার-মসজিদ-মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতার, গ্রহণযোগ্য তদন্ত কমিশন ও স্বতন্ত্র ট্রাইব্যুনাল গঠন করে জুলাই গণহত্যাকাণ্ডের বিচার করা, সব দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের শ্বেতপত্র প্রকাশ করা, বিদেশে পাচার করা সব অর্থ দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করে দুর্নীতিবাজদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, বিচার বিভাগসহ প্রজাতন্ত্রের যে সব কর্মচারী আইন, সংবিধান, শপথ লঙ্ঘন করে অপেশাদার আচরণ করেছেন তাদের বিচারের মুখোমুখি করা, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, আগামী নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশহণমূলক হয় এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দেশব্যাপী সন্ত্রাস, লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ, ডাকাতি, চর দখলের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জবর দখলের যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তা কঠোর হস্তে দমন করা।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা তৈয়ব আলি, আবু নাছের তালুকদার, এম. সোলাইমান ফরিদ, পীরজাদা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ, যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, আন্তর্জাতিক সচিব অধ্যাপক সৈয়দ জালাল উদ্দিন আজাহারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।