লিয়াকত আলী লাকীর বিচার চেয়ে ৭ দাবি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ‘বিক্ষুব্ধ থিয়েটার কর্মীগণ’ নামে একটি সংগঠন গত ১৯ জুলাই থেকে শেখ হাসিনা সরকারের হত্যা এবং খুনের প্রতিবাদ করে এসেছে। আজ সোমবার (১২ আগস্ট) তারা শিল্পকলা একাডেমির সদ্য পদত্যাগ করা মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তারা জানান, শিল্পকলা একাডেমির যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম আর দলীয় লেজুড়বৃত্তির অভিযোগ আছে তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাত দাবি

১। লিয়াকত আলী লাকীর বিরুদ্ধে সকল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম আর দলীয় লেজুড়বৃত্তির অভিযোগ তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

২। শিল্পকলা একাডেমির অন্য যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম আর দলীয় লেজুড়বৃত্তির অভিযোগ আছে তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩। লিয়াকত আলি লাকীকে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন থেকে পদত্যাগ করতে হবে।

৪। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এবং পথ নাটক পরিষদকে মৌলিক রূপান্তরের পতে যেতে হবে। সব লোভ, ক্ষমতা আর স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থিয়েটারকে গুরুত্ব দেবেন।

৫। গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বদলাতে হবে। যেন তা স্বৈরাচারীর বশংবদ হয়ে না পড়ে সে জন্য গঠনতন্ত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

৬। জুলাই হত্যাকাণ্ডে আদেশ দেওয়া, নিপীড়নে অংশ নেওয়া, হত্যায় সমর্থন তৈরির পিআর করা মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যারা কেবল সমর্থন দিয়েছে হত্যাকাণ্ডকে তাদের যে যে মাধ্যমে সমর্থন দিয়েছে সেই মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।

৭। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সুসম্পর্কের ভিত্তিতে লেজুড়বৃত্তি না সর্বজনের সর্বপ্রাণের শিল্পও চর্চার দিকে যেতে হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাকার বকুল, তাড়ুয়া, কাজি রোকসানা রুমা, বটতলা, কাজি তৌফিকুল ইসলাম ইমন, প্রাচ্যনাট। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ আলী হায়দার।

সমাবেশ শেষে সব শহীদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গণ–অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে বিপ্লবকে ধরে রাখার জন্য থিয়েটারে সংস্কারের প্রত্যয় ব্যক্ত করে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সমাবেশটি শেষ হয়