বেসরকারি মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের দুই শতাধিক কর্মীকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অবিলম্বে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়াসহ হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গতকাল সোমবার রাজধানীর নর্দা এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়-জিপি হাউজের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগীরা।
গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসুলুল আমিন মুরাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘উচ্চ আদালতে আপিল বিভাগের রায় বাস্তবায়ন না করে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে তা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ও সরকারের প্রতি অসম্মানজনক ও ন্যক্কারজনক। গ্রামীণফোনের এই বেআইনি ছাঁটাই, অবৈধ লকআউট ও অসৎ শ্রম আচরণসহ সকল অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকা-ের বিষয়ে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বেআইনি ছাঁটাইয়ের শিকার ২০২ জন কর্মীকে পুনর্বহালের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বর্তমান অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।’
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কমিউনিকেশন সেক্রেটারি আদিবা জেরিন চৌধুরী, আজাহার ইসলাম, শাহরীয়ার মুরতুজা, শাহজাহান শাহ, আসাদুজ্জামান, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন চালুর আবেদন করার অপরাধে দুইশর বেশি কর্মীকে বেআইনিভাবে কোনোরকম আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়ে সরাসরি চাকরিচ্যুত করে গ্রামীণফোন। এদের মধ্য থেকে ২২ জন কর্মী এই অন্যায় ও বৈষম্যের প্রতি মাথানত না করে আপসহীন থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আদালতে আইনি যুদ্ধ চালিয়ে আসছেন। অপরদিকে অপারেটরটি বিগত সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে বছরের পর বছর ধরে আইনের প্রক্রিয়াগুলোকে সুকৌশলে প্রলম্বিত করছে।
সমাবেশে জানানো হয়, করোনা মহামারীর সময়ে গ্রামীণফোনের ব্যবসার প্রসার ও মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি সত্ত্বেও ২০২১ সালে জুন মাসে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ১৫৯ জন কর্মীকে একসঙ্গে ছাঁটাই করা হয়।