রায়হান রাফী ও তার টিমের বিরুদ্ধে সহকারী পরিচালকের অভিযোগ 

চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফী ও তার টিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তারই সাবেক সহকারী পরিচালক আতকিয়া আদিবা বিন্তি। অপেশাদার আচরণ, বাজে ব্যবহার এবং মানসিক অত্যাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তিনি।

এক ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগের কথা জানান এই তরুণী। পোস্টের সঙ্গে তিনি সংযুক্ত করেন রাফীর প্রোডাকশন হাউজের আইডি কার্ড এবং তার প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার সময় চুক্তিকৃত সেইসব দলিল। স্ট্যাটাসে বিন্তি নামের সেই তরুণী লিখেন, ‘আমি গত বছরের ডিসেম্বরে ‘কানন ফিল্মস’ এ ইন্টারভিউ দেই জবের জন্য। তারপর তারা আমাকে আরেকদিন ডাকে তাদের ডিরেক্টর রায়হান রাফি ভাই এর সাথে কথা বলতে। গেলাম কথা বললাম। সেদিনই জব অফার করলো এবং হাতে একটা বিরাট দলিলের মতো একটা পেপার তুলে দিলো। আমাকে বললো ১০০ টাকার একটা স্টাম্প পেপার এটা। হুট করে এই জিনিসটা আমার কাছে একটু প্যারা লাগতেছিল। কারণ দেড় বছরের এগ্রিমেন্ট। দেড় বছরের আগে আমি তাদের অফিস ছাড়তে পারবোনা। 

6d82fc57-9bc9-4082-8477-c55b90567510

বিন্তি জানান, এরমধ্যে চুক্তির একটি শর্ত ছিল এরকম, পারিবারিক/সামাজিক/রাজনৈতিক কোন ধরনের অযুহাতে কানন ফিল্মসের কাজে বিরতি দেওয়া যাবেনা। রায়হান রাফীর অনুমতি ব্যতিত নিজ ইচ্ছায় কর্মবিরতি দিলে বা অফিসে না আসলে বা শুটিংয়ে না আসলে প্রতি মাসের মাসিক বেতনের ৫ গুণ টাকার সমপরিমাণ টাকা পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এরপর এই সহকারী পরিচালক কয়েকজনের সাথে কথা বললেন যে চুক্তিপত্রে সাইন করা ঠিক হবে কিনা! তারপর সেই অফিসের ইপি (এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার) সোহাগকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে, ইট’স জাস্ট এ ফর্মালিটি।  সিরিয়াস কিছু না। তারপর এই তরুণী মনে আশ্বাস নিয়ে চুক্তিতে সই করেন। 

caff5fb2-8bc0-4276-83ab-36c2daae0aa9

দেশ রূপান্তরকে আতকিয়া বিন্তি বলেন, আমি তাদেরকে অনেকবার জানিয়েছি যে লেট নাইট অফিস করতে পারব না। কিন্তু আমি ৬/৭/৮ টার মধ্যে কোনোদিন বাসায় ঢুকতেই পারতাম না। কোনোদিন রাত ১২ টা কিংবা ১টাও বাজছে। বাসায় শুরুতে কয়েকদিন বুঝালাম। তারপর যখন আব্বু-আম্মুও দেখতেছে যে আমি আসলে প্রতিদিনই দেরী করতেছি তখন তারা আমাকে নিষেধ করে দিলো অফিস যেতে। এর আগেও এমন হইছে এটা স্বীকার করতেছি আমি। কিন্তু ব্যাপারটা যে শুধু এতোটুকুতে সীমাবদ্ধ শুধু তা নয়। অফিসের স্টাফরা মেন্টাল টর্চার করতো। রাতে দেরি হলে তারা অফিসেই থেকে যেতে বলে আমাকে, যেটা কোনোভাবেই সম্ভব না। একজন তো আমার গায়ে হাত তুলতেও চলে এসেছিল। এগুলো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি পরিচালককে সবগুলো বিষয় জানালেও তিনি তেমন গুরুত্ব দেন নি। দেখতেছি বলে প্রতিবারই পাশ কাটিয়ে যেত।

তিনি আরও বলেন, তারা যে ধরণের ব্যবহার, মানসিক অত্যাচার করতো সেটা মেনে নেওয়ার মতো না। এরপর আমি মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। কোনো সমাধান হলো না। আমাকে অর্ধেক মাসের বেতন দিল। এরপর আমি অফিসে যাওয়া বন্ধ করে দিই। অফিসে না গেলে  সেই অফিসের ইপি আমার বাবার নাম্বারে ফোন দিয়ে অনেক কিছু বলতো। এগুলোও বলত যে, আমার কাছে নাকি লাখ লাখ টাকার হিসাব এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। আমার নামে মামলা করবে বলেও হুমকি দেয়। 

এসব শুনে আমার বাবা-মায়ের প্রেশার উঠে গেছে। এরপর আমি তাদের অফিসে গেলে সোহাগ একটা পেপার প্রিন্ট করে এনে বলে এখানে সাইন করেন। যেখানে লেখা ছিল আমি অফিস ছেড়ে দেওয়ায় আমার বেতনের ৫ গুণ সমপরিমাণ অর্থাৎ ২ লাখ ৭ হাজারের মতো টাকা আমার তাদেরকে দিতে হবে। যেটা চুক্তিতেই ছিল। আমি টাকা দিতে পারব না জানালে তারা আমার ল্যাপটপ জামানত হিসেবে রেখে দেয় এবং বলে টাকা দিয়ে ল্যাপটপ ফেরত নিতে।

রাফী ভাইকে এসব বিষয় জানালে তিনি বলেন যে, এগ্রিমেন্টে সাইন করছিলা কেন তাহলে? সব তো লেখাই ছিল এগ্রিমেন্টে। তখন আমি জানাই যে, সোহাগ ভাই তো বলছিল এটা জাস্ট ফর্মালিটির জন্য। সিরিয়াস কিছুনা। তখন তার উত্তর ছিল, সোহাগ তোমাকে এগ্রিমেন্টে কি বলে সাইন করিয়েছে সেটা তোমার ব্যপার আর সোহাগের ব্যাপার। এটা আমিও দেখবো না, আইনও দেখবেনা। এখন তোমাকে এই টাকা আমাদেরকে দিতে হবে।

এরপর আমি তাদের জানাই যে, এত টাকা আমি দিতে পারব না। এরপর আমার ল্যাপটপটা দিয়ে আসি। ছয় মাস পর যখন ল্যাপটপ ফেরত নিয়ে আসার পর তাদের আইডি কার্ডটা আমার কাছে থাকার কারণে টানা অনেকদিন আমাকে ফোন দিয়ে অনেক টর্চার করতে থাকে। এরপর আমি বললাম যে এসে নিয়ে যেতে। এরপর আমি পাঠাওতে করে তাদের আইডি কার্ডটা ফেরত পাঠাই। তারা সেই পাঠাওয়ের ভাড়াটা পর্যন্ত দেয়নি, পাঠাওওয়ালাকে আবার আমার কাছে ফেরত পাঠিয়েছে ভাড়ার জন্য। এরা হলো এরকম মন মানসিকতার। 

বিন্তি জানান, আমরা এখানে যারা কাজ শিখতে আসি তাদেরকে কিসব বিষয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং আর কারও সঙ্গে যেন এমন না হয় এমনটাই চাই। বললেন, আমি আমার বেতনের বাকি অংশটুকু পাব কি না জানি না। কিন্তু এসব অন্যায় যেন কারও সাথে না হয় এবং আমার সঙ্গে তারা যে ধরনের ব্যবহারগুলো করেছে, মানসিক অত্যাচার করেছে সেগুলোর বিচার চাই।