চলমান তীব্র গ্যাসসংকটের মধ্যে নোয়াখালীতে আরও একটি কূপে গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১০-১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়েব দেশ রূপান্তরকে বলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি কূপে ৪টি স্তরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩টি স্তর থেকে গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। ইতিমধ্যে টেস্টিংয়ের অংশ হিসেবে সর্বশেষ স্তর থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এরপর ২০ মিলিয়ন ঘনফুট করে গ্যাস তোলা হবে। এভাবে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাণিজ্যিকভাবে প্রতিদিন কতটুকু গ্যাস তোলা যাবে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
কূপটিতে কী পরিমাণ গ্যাসের মজুদ আছে তা জানতে চাইলে শোয়েব বলেন, ‘বিষয়টি এখনই আমরা বলতে চাচ্ছি না। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে কয়েক দিন সময় লাগবে। তবে আশা করছি, সেখানকার মজুদ আশপাশের কূপের চেয়ে ভালো। ভবিষ্যতে সেখানে আরও দুটি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাপেক্স আগের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করছে। এই মুহূর্তে বিভিন্ন স্থানে ৩টি রিগ খননকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যান্য এলাকায়ও গ্যাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে; যা দেশীয় গ্যাসের মজুদ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
বাপেক্স সূত্রে জানা যায়, কূপটিতে ৩ হাজার ১১৩ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়, যার মধ্যে ১ হাজার ৯২১ থেকে ১ হাজার ৯৭৩ মিটার পর্যন্ত প্রথম স্তর, ২ হাজার ৫৪৮ মিটার থেকে ২ হাজার ৫৮৫ মিটার পর্যন্ত দ্বিতীয় স্তর এবং ৩ হাজার ৮১ মিটার থেকে ৩ হাজার ১০১ মিটার পর্যন্ত তৃতীয় স্তরে গ্যাসের অস্তিত্ব মিলেছে।
কর্মকর্তারা জানান, গত ২৯ এপ্রিল সোনাইমুড়ী উপজেলার ওয়াছেকপুর গ্রামে বেগমগঞ্জ-৪ নামের ওই গ্যাসক্ষেত্রের কূপটি খনন করা হয়। গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হলে সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওই কূপে আগুন জ¦ালানো হয়। কূপটি থেকে উত্তোলিত গ্যাস বাখরাবাদের আঞ্চলিক সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করার জন্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। সে জন্য ৩ মাসের মতো সময় লাগতে পারে।
নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কূপ খননে সফলতা পেয়েছে বাপেক্স। একসময় গ্যাসকূপ খননের কাজে বিদেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তারা যুক্ত
থাকলেও এখন তার পরিবর্তন হয়েছে। এই কূপ খননের সঙ্গে জড়িত প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই বাংলাদেশের।
এর আগে গত ২৯ মার্চ জেলার কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ইউনিয়নের চর কাঁকড়া গ্রামে সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের একটি কূপে গ্যাসের সন্ধান পায় বাপেক্স। ওই গ্যাসক্ষেত্র থেকে ইতিমধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা শুরু হয়েছে।
১৯৭৬ সালে বেগমগঞ্জ-১ এবং ১৯৭৮ সালে বেগমগঞ্জ-২ গ্যাসকূপ খনন করা হলেও সেগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে বেগমগঞ্জ-৩ কূপ খনন করা হয় এবং সেখান থেকে এখনো প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ফেনী-নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে।