স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং বিগত সময়ে অবৈধভাবে দেওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন বাতিল চেয়েছেন স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকরা। এই দুই দফা দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
দাবি আদায়ে আজ বুধবারও সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান নেবেন চিকিৎসকরা। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন।
তবে চিকিৎসকদের ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে কার্যালয়ে ছিলেন না মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকাল কেউ অফিসে আসেননি।
কর্মসূচির বিষয়ে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব ও টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. উম্মে তানিয়া নাসরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিগত সরকারের সময় থেকেই সব ধরনের অবৈধ নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বাতিল চেয়ে আন্দোলন করে আসছি। পাশাপাশি বছরের পর বছর স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকদের পদোন্নতি না দিয়ে সেই পদে অবৈধভাবে যেসব অ্যাডহক ও প্রকল্পের চিকিৎসকদের পদায়ন ও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটার বিরুদ্ধেও আন্দোলন করে এসেছি। এই চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত রবিবার অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন নেতারা বৈঠক করেছি। তারা স্বীকার করেছেন, সে সময় তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর চাপে পড়ে অবৈধ পদায়নগুলো করেছেন। এখন তারা সেগুলো বাতিল করতে রাজি হন। পরে সেদিনই স্বাস্থ্য ক্যাডারের পদে নিয়োগ পাওয়া অ্যাডহক ও প্রকল্পভুক্ত চিকিৎসক কর্মকর্তাদের বদলি করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদায়নের সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু অ্যাডহক ও প্রকল্পের চিকিৎসকদের চাপের মুখে পরদিনই (গত সোমবার বিকেলে) সেই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে সিদ্ধান্ত চেয়ে মহাপরিচালক সচিবালয়ে ন্যস্ত করেন।’
অ্যাসোসিয়েশনের এই নেতা বলেন, ‘এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানের এখতিয়ার নেই। কারণ এসব নিয়োগ ও পদোন্নতি অধিদপ্তর থেকেই হয়। তাই আমাদের মনে হয়েছে মহাপরিচালক এত দিন অন্যায় ও দুর্নীতি করেছেন, এখনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবেন। তাই আমরা মহাপরিচালকসহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ চাই। আমরা চাই বিধি মোতাবেক সব অবৈধ পদায়ন, পদোন্নতি এবং কোনো নিয়োগ যদি অবৈধ প্রমাণিত হয়, সেসব নিয়োগ বাতিল করতে হবে।’