সাঈদ-সোহাগের বাড়িতে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক প্রতিনিধিরা

বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ^বিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ছাত্র আবু সাঈদের গ্রামের বাড়ি বাবনপুরে বৈষম্যবিরোধী কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছে। তারা আবু সাঈদের বাবা মা সহ পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটান এবং সমবেদনা জানান। এ সময় উপস্থিত সকলে কান্নায় ভেঙে পড়লে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। 

বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী  প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় অন্যতম সমন্বয়ক উমামা ফাতেমা। তার সাথে ছিল পনের সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। পীরগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যোদ্ধারাও ছিলেন তাদের সাথে। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেও তার সন্ত্রাসীরা এখনো জেলা ও উপজেলায় সক্রিয় রয়েছে এবং সহিংসতা করার চেষ্টা করছে। যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিল তাদের টার্গেট করে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

উমামা ফাতেমা আরও বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসিতে একটি প্রগ্রামে দাবি জানিয়েছি যে আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার দায়ে মামলা দায়ের করে শেখ হাসিনার যেন বিচার করা হয়। আবু সাঈদসহ অন্যান্য সবার হত্যার বিচার আমরা আদায় করব। পরে তারা আন্দোলনকালীন ঢাকার বাড্ডায় পুলিশের গুলিতে নিহত প্রতিবন্ধী যুবক সোহাগ মিয়ার গ্রামের বাড়ি উপজেলার বড়পাহাড়পুরে গিয়ে তার মা-বাবাসহ পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।

আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন পার্ক মোড়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবু সাঈদ। অন্যদিকে গত ১৯ জুলাই ঢাকার বাড্ডায় আন্দোলন চলাকালীন সময়ে মায়ের ওষুধ আনতে গিয়ে প্রাণ হারায় প্রতিবন্ধী সোহাগ।