টানা ডিউটির পরে মাঝরাতে চোখ বন্ধ করে নিজের হাসপাতালে সামান্য বিশ্রাম খুঁজছিলেন মেয়েটি। সেই চোখ আর খোলেনি তার। তা হলে কি নিজের কর্মস্থলে রাতে আর নিরাপদ নন নারী কর্মীরা? তরুণী চিকিৎসকের জীবন ও সম্ভ্রমহানি এ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ভারতজুড়ে। প্রতিবাদে উত্তাল চিকিৎসক থেকে আমজনতা। এরই মধ্যে অভিনব প্রতিবাদের উপায় বের করলেন নারীরা।
আহ্বান— ‘মেয়েরা, রাত দখল কর’। সময় স্বাধীনতার মধ্যরাত। ১৪ আগস্ট মাঝরাতে জমায়েতের ডাক ছিল কলকাতার তিন স্থান কলেজ স্ট্রিট, যাদবপুর আর অ্যাকাডেমি চত্বরে। কিন্তু এই আহ্বানে উত্তাল নেটপাড়াও। সোশ্যালে ছড়িয়ে পড়ার পর তরুণী-চিকিৎসকের জীবন ও সম্ভ্রমহানির এ ঘটনায় সেই ডাক পৌঁছে গেছে শহর থেকে জেলাতেও। ফলে বুধবার (১৪ আগস্ট) এক অন্যরকম আন্দোলনের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ।
শুরুটা যদিও হয়েছিল কলকাতার তিনটি জায়গা দিয়ে। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে দেখা গেছে তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম। কলকাতার উত্তর-দক্ষিণের সঙ্গে শহরের পূর্বেও জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে। বীরভূমের শান্তিনিকেতনের বার্তা ‘দেখা হবে রাস্তায়’, নদিয়ার রানাঘাট জানাচ্ছে ‘সঙ্গে আছি’।
উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জের ঘড়ির মোড়ে মঙ্গলবার রাত থেকেই সাজো সাজো রব। পিছিয়ে নেই বহরমপুরের ঐতিহাসিক স্কোয়ার ফিল্ড। মালদার ইংলিশ বাজার কিংবা বর্ধমানের কার্জন গেট চত্বরেও একই আহ্বান। কোনো কোনো শহরে একাধিক জমায়েতেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। রাতে দেখা গেছে তালিকায় বাদ নেই কোনো জেলা।
রাতের রাস্তায় মেয়েদের জমায়েত নিয়ে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, তথাগত মুখোপাধ্যায়, কিঞ্জল চট্টোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্ররা ইতিমধ্যেই বার্তা দিয়েছেন। গত শনিবার রাতে সোশ্যালে স্বস্তিকা লেখেন, ‘এই শহর আমাদের। এই দেশও আমাদের। সবাই আসুন। যে যেখানে পারবেন আসুন। নিজের এলাকায় জড়ো হোন। নিজের পাড়ায় জড়ো হোন। ওদের জানান। এই রাস্তা আমাদেরও।’
এই আন্দোলনের সমর্থনে বার্তা দিয়েছেন পুরুষরাও। অনেকেই জানিয়েছেন, এই আন্দোলনে সামিল হতে চান তারাও। স্বাগত জানিয়েছেন অভিনেত্রীরাও। তাদের সাফ কথা, ‘রাতের বেসামাল শহরকে তারা বুঝে নিতে পারেন।’
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ৩১ বছর বয়সী তরুণীর চিকিৎসকের মৃত্যুর নিন্দা জানিয়েছে সমাজের সর্ব স্তরের মানুষ। এর মাঝেই টেলি অভিনেত্রী ও নাট্যকর্মী গুলশনারা খাতুনের মন্তব্যের জেরে তাকে নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে নেটপাড়ায়। গুলশনারা নিজেও এই প্রতিবাদ জমায়েতে থাকবেন। সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘প্রতিটি পুরুষ চরিত্রের ধর্ষক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আমি চিৎকার করে বলছি। যদি আপত্তি থাকে আমাকে বন্ধুতালিকা থেকে সরিয়ে দেবেন।’ আর তাতেই গর্জে উঠেছেন অনেকে। সেখানে শুধু পুরুষেরা নন, নারীরাও প্রতিবাদ করেছেন সমস্বরে।