রাজশাহী

ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে

রাজশাহীতে চলচ্চিত্র পরিচালক ও লেখক ঋত্বিক কুমার ঘটকের পৈতৃক বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত ৬ ও ৭ আগস্ট দুই দিনে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ সাংস্কৃতিক কর্মীদের। তাদের দাবি, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীদের ওপর দোষ চাপিয়ে হোমিওপ্যাথিক কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান পুরনো স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলেছেন।

ঋত্বিক ঘটক রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করেছেন। পরবর্তীতে তার পরিবার কলকাতা চলে গেলে ১৯৮৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকার এই বাড়ির ৩৪ শতাংশ জমি রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজকে ইজারা দিয়েছিলেন। এরপর জায়গাটির উত্তরে গড়ে তোলা হয় হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের আধুনিক ভবন। এ ভবনের দক্ষিণ অংশে ঋত্বিক ঘটকের স্মৃতিবিজড়িত পুরনো বাড়ির ঘরগুলো অক্ষত ছিল।

সাংস্কৃতিক কর্মীরা জানান, ঋত্বিকের বাড়ি ভেঙে জায়গাটি অন্য কাজে ব্যবহারের চেষ্টা কলেজ কর্তৃপক্ষ আগেও করেছে। বারবার বাধা দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে বাড়িটি ভেঙে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাজশাহীর সাংস্কৃতিককর্মীরা জেলা প্রশাসকের কাছে যান। এর আগে তারা সাংবাদিকদের বলেন, অধ্যক্ষ এটি (বাড়ি) ভাঙলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান জানান, গত ৬ আগস্ট কিছু ছাত্র এসে প্রথমে বাড়িটি ভাঙতে শুরু করে। তাদের কয়েকজনকে তিনি চেনেন। যারা ভাঙছিলেন তিনি তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। তখন তারা জানান, তারা শ্রমিক এবং কিছু ছেলে তাদের টাকা দিয়েছেন এটা ভেঙে ফেলার জন্য। কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বাড়িটি ভেঙে ফেলার অভিযোগও অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ।

যদিও সাংস্কৃতিককর্মী আন্নাবা কবির অধ্যক্ষের কথার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘অধ্যক্ষ এখন ছাত্রদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। ছাত্ররা ভাঙলে কলেজের নতুন ভবনেও ভাঙচুর চালাতে। সেখানকার একটি জানালার কাঁচও ভাঙেনি। অথচ ঋত্বিক ঘটকের বাড়ির পুরোটাই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি করে সম্ভব! ছাত্ররা ভাঙলে তারা সবকিছুতেই ভাঙচুর করতে।’

রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামিম আহমেদ বলেন, ঋত্বিক ঘটকের পৈত্রিক বাড়ি ভেঙে ফেলার কথা শুনেছি। সাংস্কৃতিককর্মীরা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা ও আইসিটি) তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। যারাই এই বাড়ি ভাঙুক, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।