গর্ভকালীন ডায়াবেটিস

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস একটি বিশেষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা। সারা বিশে^র মতো আমাদের দেশেও অনেক মহিলার গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস রোগ শনাক্ত হয়। প্রতি বছর মোটামুটি ১০%-১৫% গর্ভবতী মহিলা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন। যেহেতু গর্ভের সন্তানের ওপর ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক বেশি সেহেতু গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ক্ষতিকর প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস আছে, যাদের অতিরিক্ত ওজন, বয়স ৩৫-এর বেশি অথবা যাদের পূর্বে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে তাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা হয়। রোগী যখন গর্ভকালীন চেক-আপে যান তখন এই পরীক্ষা করতে দেওয়া হয়। এটাকে বলা হয় ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট। রোগী খালি পেটে একবার রক্ত দেবে, এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খেয়ে দুই ঘণ্টা পরে দ্বিতীয়বার রক্ত দেবে। খালি পেটে যদি ৬.০ মি.লি. মোলের বেশি এবং গ্লুকোজ খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর যদি ৭.৮ মি.লি. মোলের বেশি হয় তবে তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগী বলে শনাক্ত করা হয়।

খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং শারীরিক (সীমিত) ব্যায়াম হচ্ছে প্রথম ধাপ।

সব মিষ্টি জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে, আলু বাদে সব শাকসবজি ও ফল বেশি করে খেতে হবে, প্রোটিন খেতে হবে।

সীমিত পরিমাণ (ডাক্তারের নির্দেশ মতো) শর্করা জাতীয় খাবার খেতে হবে।

প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। এই নিয়মের  ভেতরে চলার পরও যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে রোগীকে ইনসুলিন নিতে হবে।

ইনসুলিনের প্রতি রোগীদের একটি ভীতি কাজ করে। এটাকে ভয় পাওয়ার আসলে কোনো কারণ নেই। সাধারণত গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সন্তান জন্মের পরেই চলে যায়। এরপর আর ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

গর্ভকালীন সময়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ যদি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকে প্রথমাবস্থায় গর্ভপাত হতে পারে, হতে পারে বিকলাঙ্গতা, অধিক ওজনের বাচ্চা, গর্ভকালীন অবস্থায় সন্তানের মৃত্যু, প্রসবকালীন জটিলতা, নবজাতক সন্তানের জন্ডিস, গ্লুকোজ স্বল্পতা, রক্তে মৌলিক উপকরণের অসামঞ্জস্যতাসহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতা।

কখন আমরা বলব ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে?

যদি খালি পেটে রক্তের গ্লুকোজ ৫.৩০ মি.লি. মোলের নিচে থাকে এবং খাবার দুই ঘণ্টা পরে রক্তের গ্লুকোজ ৬.৭ মি.লি. মোলের নিচে থাকে।

যদি ৩.৫ মি.লি. মোলের নিচে নেমে যায় তখন আমরা বলি হাইপোগ্লাইসেমিয়া। তখন রোগীর মাথা ঘোরায়, ঘাম হয়, অনেক সময় অচেতন হয়ে যায়। এ সময় একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার খেয়ে নিতে হয়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য গর্ভবতী মহিলাসহ তার পরিবারের সব সদস্যকে এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। গর্ভবতী মাকে সহায়তা করতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীকে ঘন ঘন রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। বারবার ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।