সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগের পর সারা দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও উপাসনালয়ের হামলার অভিযোগ উঠে। তবে এর মধ্যেই ফেনীর সোনাগাজী ছিল ব্যতিক্রম। গত ১২ দিনে উপজেলার কোথাও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর উপাসনালয়ে ভাঙচুর হামলার ঘটনা ঘটেনি। এমনটি জানিয়েছেন সোনাগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুদ্বীপ রায়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ওসি সুদ্বীপ রায়ের বক্তব্যের সত্যতাও মিলেছে। তবে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সুযোগে একাধিক স্থানে চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটলেও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে দুর্বৃত্তরা সুবিধা করতে পারেনি।
বগাদানা ইউনিয়নের পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে ও মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের সভাপতি বাদল শীল বলেন, ‘আমাদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও বাড়িঘরে কোনো ধরনের হামলা এখন পর্যন্ত হয়নি।’
উপজেলার কালিবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক শান্তি রঞ্জন কর্মকার বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর অস্বাভাবিক পরিস্থিতির উদ্ভব হলেও হিন্দু সম্প্রদায় আক্রান্ত হয়নি। কোথাও কোনো ধরনের হামলা অথবা ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা বলেন, পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হিন্দুরা আক্রান্ত হলেও এবার সে ধরনের ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম বলেন, আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মোস্তফা ও পৌর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মো. কালিম উল্যাহ জানান, সংখ্যালঘুরা আমাদের আমানত। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
সোনাগাজী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সমর দাস বলেন, সোনাগাজী উপজেলায় ছোট-বড় ৭৯টি সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ আমরা পাইনি। প্রশাসন, রাজনৈতিক দলের নেতারা ও এলাকাবাসী আমাদের খোঁজ-খবর রাখছেন।