বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে চাদাবাজি বা বিশেষ সুবিধা দাবি করলে তাদের নিকটস্থ থানায় সোপর্দ করার আহ্বান জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
এই সমন্বয়ক বলেন, নিটোরে (পঙ্গু হাসপাতাল) গিয়েছি। সেখানে দেখেছি সমন্বয়ক ও সহ সমন্বয়কের ব্যানার টানিয়ে ফান্ড সংগ্রহ করা হচ্ছে। সেখানে হাতে নাতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকাসহ এক পক্ষকে আমরা ধরেছি। আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু থেকে আজ পর্যন্ত আমরা কোন ধরনের আর্থিক লেনদেনের সাথে সম্পর্কিত না। আমাদের যদি কোন ধরনের আর্থিক সহযোগিতার দরকার হয়, সেটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অথবা সংশ্লিস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হবে।
শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা বলেন।
তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ফিলিস্তিনের রাফা ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ঢাকার হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করেছি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের অভিজ্ঞতা যদি বলি ফিলিস্তিনের যে রাফা ক্যাম্প সেটি বাংলাদেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতোটাই ভঙ্গুর ফিলিস্তিনের রাফা ক্যাম্পের সাথে হাসপাতালের কোন ধরনের বৈসাদৃশ্য নেই।
এই সমন্বয়ক বলেন, বিগত সরকার আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে জানাজা করে দাফন সম্পন্ন করেছেন। এই ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতকে আবার পুনর্জ্জীবীত করতে চাইলে আমাদের ইনক্লুসিভ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এই সমন্বয়ক বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যদি লাল ফিতার দৈরাত্ব, রাজনৈতিক আধিপত্য, টেন্ডারবাজি বা স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা না থাকে, তা হলে ৯০ দিনের মধ্যে এই ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতকে জনমুখী স্বাস্থ্যখাত হিসেবে উপহার দিতে পারবেন। আমরা তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনার যদি ৯০ দিনের মধ্যে এই ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাতকে জনমুখী স্বাস্থ্য খাত হিসেবে উপহার দিতে পারেন, আমাদের যে সহযোগিতা প্রয়োজন সব দেব। সুতরাং আপনারা নির্ভয়ে কাজ করবেন।
এই সমন্বয়ক বলেন, আজ সকালে ঢামেকে মিটিং করেছি। আহত ছাত্র জনতার সুচিকিৎসায় সরকারি হাসপাতালে স্পেশালাইজড ডেডিকেটেড কেয়ার ইউনিট করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে শুধু আহতদের চিকিৎসা হবে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা হবে। বেসরকারির ক্ষেত্রে আহতদের চিকিৎসা দিতে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেটাও কীভাবে ফেরত আনা যায়, সেটা নিয়েও কথা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশ্বস্ত করেছেন সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এখন থেকে আর বেসরকারি হাসপাতালেও কোন টাকা লাগবে না।