প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে শিক্ষা ক্যাডার ঘোষণাসহ নয় দফা দাবিতে মনববন্ধন করেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, জনবিচ্ছিন্ন নতুন শিক্ষাক্রম অতিসত্বর সংশোধন করতে হবে। এসব দাবি পূরণ হলে প্রাথমিক শিক্ষায় বৈষম্য দূর হবে।
গতকাল শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে ‘বৈষম্যবিরোধী প্রাথমিক শিক্ষক সমন্বয় পরিষদ ও বৈষম্য নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের’ ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন শিক্ষকরা।
মানববন্ধনে শিক্ষকরা বলেন, তারা যে পদে যোগদান করেন, সে পদে থেকেই অবসরে যান। যার ফলে সারা দেশের শিক্ষকরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। এ জন্যই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কার দরকার। প্রাথমিক শিক্ষার নিজস্ব ক্যাডার ঘোষণা, সব শিক্ষকের প্রাণের এ দাবি যৌক্তিক। প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান অর্জনের জন্য নিজস্ব জনবল দিয়ে ক্যাডার সার্ভিস গঠন করার দাবি জানান তারা।
তারা আরও বলেন, প্রশাসন ক্যাডার থেকে প্রেষণে নিয়োগ পাওয়ার ফলে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান অর্জনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং প্রাথমিক শিক্ষার নিজস্ব লোকদের আশা-আকাক্সক্ষা প্রতিফলিত হচ্ছে না এবং তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রাথমিক শিক্ষার সব দক্ষ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই পদে থেকে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে নয় দফা দাবি হলো
১. প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে শিশু অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। ২. প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ৩. জনবিচ্ছিন্ন প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম অতিসত্বর সংশোধন করতে হবে। ৪. প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলামের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কারিকুলাম আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে। ৫. প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের বৈষম্যপূর্ণ নিয়োগ বিধি বাতিল করতে হবে। ৬. এন্ট্রিপদ থেকে ডিজি পর্যন্ত ১০০ ভাগ পদোন্নতির বিধান রেখে প্রাথমিক শিক্ষা ক্যাডার ঘোষণা করতে হবে। ৭. প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রশাসন ক্যাডারমুক্ত করতে হবে। ৮. প্রাথমিক শিক্ষাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। ৯. পিডিপি-১. পিডিপি-২, পিডিপি-৩, পিইডিপি-৪ সহ প্রাথমিক শিক্ষার সব প্রকল্পের অপচয় ও দুর্নীতির হিসাব উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।