থাইল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৩৭ বছর বয়সী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন। রোববার ব্যাংককের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার পর সাবেক থাকসিনপন্থী একটি টেলিভিশন স্টেশনের সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে থাই রাজার কাছ থেকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক চিঠি গ্রহণ করেন পেতংতার্ন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে পেতংতার্নের বাবা থাকসিন সিনাওয়াত্রাও (৭৫) উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানস্থলে সম্মুখসারিতে পেতংতার্নের স্বামীর পাশে ছিলেন তিনি।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্রেথা থাভিসিনকে গত বুধবার সাংবিধানিক আদালত পদচ্যুত করেন। এর দুদিন পর গত শুক্রবার পেতংতার্নকে নতুন ও সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা পক্ষে ৩১৯ জন এবং বিপক্ষে ১৪৫ জন ভোট পড়ে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ২৪৭টি ভোটের দরকার ছিল।
২০২২ সালে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা পরিবারের হোটেল ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। ২০২৩ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম পরিচিত মুখ। পেতংতার্ন হলেন গত দুই দশকে সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া চতুর্থ ব্যক্তি।
ফিউ থাই পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের নেতৃত্ব দেবেন পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। দলটির প্রতিষ্ঠাতা তার বাবা থাকসিন। জোটে সেনা–সমর্থিত কিছু দলও থাকছে; যারা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতা করেছে থাকসিনের। ফিউ থাই পার্টির নেতা স্রেথা থাভিসিনকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণে পার্লামেন্টের ৪০ জন সিনেটর একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন। পরে বুধবার স্রেথাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করেন ব্যাংককের সাংবিধানিক আদালত। গত ১৬ বছরের মধ্যে তিনি হলেন থাইল্যান্ডের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী, যাকে সাংবিধানিক আদালত ক্ষমতাচ্যুত করেন। স্রেথার অপসারণের পর শুক্রবার সহজেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন পেতংতার্ন।