সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন উপদেষ্টা ও আইন সচিবের উদ্দেশ্যে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফাওজিয়া করিম ফিরোজ ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান। এতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে নৈতিক দুর্নীতি, অসদাচরণ এবং এর ফলে সাবেক সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে গত সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ নেয়, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি বিচার বিভাগের সামনে আনা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান অপ্রাসঙ্গিক ও অসাংবিধানিক বলেন। তার অবসরের ১৬ মাস পর রায় প্রকাশ করা হয়। এই রায় বাংলাদেশে কুৎসিত সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, খায়রুল হক দেশের সব অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার স্থপতি। তিনি শুধু সংবিধানের বিধানই লঙ্ঘন করেননি, বরং সব ঘৃণার বিষবৃক্ষ, দুর্নীতি ও বর্বরতা রোপণ করেন। সব প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের মনোবল হ্রাস, বিচার বিভাগকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও পক্ষপাতদুষ্টে পরিণত করেন।
মামলার আবেদন খারিজ
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় নিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। রবিবার অভিযোগের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ বীথি আবেদনটি খারিজের এ আদেশ দেন।
ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট ইমরুল হাসান এ আবেদনটি করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন বিচারপতির রায় নিয়ে নিম্ন আদালতে জালিয়াতির অভিযোগ করা যায় কি না সে প্রশ্ন তুলেছিলেন আদালত। আমরা বলেছি রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) ছাড়া বিচারপতি রায় পরিবর্তন করতে পারেন না। আমাদের আবেদনটি খারিজ হয়ে গেছে। পূর্ণাঙ্গ আদেশ পেলে এ আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতে রিভিশন আবেদন করব।’
মামলার আবেদন অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ২০১০ সালের ১ মার্চ আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে আপিল আবেদনকারী এবং রাষ্ট্রপক্ষ ছাড়াও অ্যামিকাস কিউরি (আদালতকে আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে জ্যেষ্ঠ ৮ জন আইনজীবীর বক্তব্য শুনে আপিল বিভাগ। রাষ্ট্রপক্ষসহ অ্যামিকাস কিউরিরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন।
২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের ঘোষিত রায়ে আরও দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখার পথ খোলা ছিল। ২০১২ সালের ১৭ মে খায়রুল হক অবসরে যান। রায় দেওয়ার ১৬ মাস তিন দিন পর পরে ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রায়ে তিনি আরও দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের অংশটি রাখেননি।
প্রসঙ্গত এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তার মেয়াদ বর্ধিত করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। গত সপ্তাহে তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন।