ডিবি হারুন ও আছাদুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা একই ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। গতকাল রবিবার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দুদকের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে দুদকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডিএমপির সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুসন্ধান দল গঠনের জন্য অভিযোগসংক্রান্ত নথি একজন মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আজকালের মধ্যে অনুসন্ধান টিম গঠন করা হবে।’

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের হোসেনপুর গ্রামসংলগ্ন হাওরের প্রায় ৩০ একর জমি নিয়ে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করেছেন। যেটির নাম প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট। ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রিসোর্টটি ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চালু করা হয়। রিসোর্টটিতে ২০টি দোতলা কটেজে ৪০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ রয়েছে। আছে রেস্টুরেন্ট, পার্টি সেন্টার, গেম জোন ও হেলিপ্যাড। দেশের বিত্তশালী ও প্রভাবশালীরা হেলিকপ্টারে চড়ে এই রিসোর্টে যাওয়া-আসা করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অ্যাগ্রো ফার্ম করার জন্য হারুন তার নিজ গ্রাম হোসেনপুরের সাধারণ মানুষের প্রায় ৩০০ একর জমি নামসর্বস্ব মূল্যে ক্রয়ের নামে দখলের চেষ্টা করেন। ইতিমধ্যে ১০০ একর জমি তিনি দখলে নিয়েছেন। যেখানে তিনি মাটি দিয়ে বাঁধ দেওয়া শুরু করেছেন। তার ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ারের নেতৃত্বে মিঠামইন থেকে অষ্টগ্রাম পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করেছেন। তার এলাকায় শত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। হারুন ১৯৯৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশের এএসপি পদে চাকরি পান। গাজীপুরের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনকালে তার কপাল খুলে যায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের এসপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় থেকেই তিনি এলাকায় জমি কিনতে শুরু করেন। তার নামে-বেনামে ১০০ একর জমি রয়েছে। দেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রেও তার শত শত কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি-গাড়িসহ সম্পদ রয়েছে।

আছাদুজ্জামান মিয়ার সম্পদের খোঁজে দুদক : ডিএমপির সাবেক কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়, ঈদুল আজহার আগে আছাদুজ্জামান মিয়ার অবৈধ সম্পদ অর্জন নিয়ে গণমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, আছাদুজ্জামানের স্ত্রীর নামে ঢাকায় একটি বাড়ি ও দুটি ফ্ল্যাট, ছেলের নামে একটি বাড়ি এবং মেয়ের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ৬৭ শতক জমি রয়েছে। এই তিন জেলায় পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে আরও ১৬৬ শতক জমি। রাজধানীর একটি আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠা জমির ওপর সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী আফরোজা জামানের মালিকানায় ছয়তলা একটি বাড়ি রয়েছে। রাজধানীর ইস্কাটনেও স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আরও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে ধানমন্ডিতে।