‘এরকম নজির এই বাংলাদেশে আগে কখনো দেখি নাই’

রাষ্ট্র সংস্কারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সময়ে রাস্তায় নেমে কেউ ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে তো আবার কেউ দেয়ালে দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকছেন। কেউ কেউ সেগুলোর ছবি কিংবা ভিডিও করে সোশ্যালে ছড়িয়ে দিলেও অন্তরালে থেকে এরকম কাজ করে যাচ্ছেন তার সংখ্যাও কম নয়।

ঠিক তেমনই অন্তরালে থাকা এক মেয়ে নজরে আসে নির্মাতা অনিমেষ আইচের। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘গতকাল বিকালবেলা রিক্সা করে বেইলি রোডের দিকে যাচ্ছি। ট্যাপ ট্যাপ করে বৃষ্টি পরছে। এক জায়গায় হালকা জ্যাম, রিক্সাসহ সবকিছু দাঁড়িয়ে গেল। হঠাৎ আমার চোখ আটকে গেলো বাম দিকে। একটা ১৪/১৫ বছরের ফরসা মেয়ে হাটু গেড়ে বসে কি যেন করছে, তার পাশে ছাতা ধরে দাঁড়িয়ে আছে তারই মতো আরেকটি মেয়ে। প্রথমে বুঝতে পারলাম না কি করছে তারা? রিক্সা খানিকটা আগালে দেখলাম, ছোট মেয়েটি রাস্তার কোন এক অংশে জমে যাওয়া পানি পরিষ্কার করার জন্য একটা লাঠি দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। পোশাক, ভাবভঙ্গি দেখে আন্দাজ করতে পারলাম তারা মোটামুটি শিক্ষিত পরিবারের সন্তান।’

তিনি আরও লিখেন, ‘বিকাল বেলার এই সময়ে হয়তো তাদের খেলার সময়। তারা তা না করে রাস্তার পানি পরিষ্কার করছে। না, কোন ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করছে না তারা। বুঝলাম অদ্ভুত এক জীবন বদলানোর তাড়না তৈরী হয়েছে বাচ্চাগুলোর ভিতর। এবার এই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে যা করলো বাচ্চাগুলো, এরকম নজির এই বাংলাদেশে আগে কখনো দেখি নাই। অনবরত তারা চেষ্টা করে চলেছে পৃথিবীটাকে বদলে ফেলতে। পানি পরিষ্কার হোক আর না হোক , চেষ্টা তো চলছে।’ 

সবশেষে তিনি লিখেন, ‘রাজনীতির কালো কুমিরটা যদি সত্যিই মরে যেতো, কত সুন্দর একটা পৃথিবী খুঁজে পেতাম আমরা।’