রাজধানীতে মামলা করায় একজনকে হত্যা, আহত ১২

রাজধানীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে ফ্ল্যাট নিয়ে মামলা করায় অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম এবং মাহবুব আলম খান (৪১) নামে একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দুজন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছে ১০-১২ জন।

এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৮/১০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা ও লুটপাটের মামলা করেছেন ভুক্তভোগী জাকির হোসেন শিকদার।

মামলার এজাহারে জানা যায়, অনেক আগে থেকে অভিযুক্তরা ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করে আসছিল। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এরই জের ধরে গত ৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর ৬/১, শান্তিবাগের সুলতানা কটেজের তৃতীয় তলার মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্সের অফিসে হামলা চালায় বেপারী হোল্ডিংস লিমিটেডের এমডি নজরুল ইসলাম (৫৫) ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা।

এদিন মনিরুল ইসলাম বাবু (৩৩), সাগর (৪২), শাহাদাত হোসেন (২৮), মো. তুহিন (৫০) ও মোফাজ্জলসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী লোহার রড, লাঠি, শাবল, চাপাতি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে নৃসংশভাবে অফিস স্টাফ মাহবুব আলম খান ও হৃদয় হোসেনকে (৩০) আঘাত করে। তারা প্রাণ বাঁচাতে ছাদের লিফটের রুমে গিয়ে আশ্রয় নেয় কিন্তু সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে নৃশংসভাবে হামলা করে এবং একজনকে লিফটের খালি স্থান দিয়ে নিচে ফেলে দেয়।

খবর পেয়ে ফ্ল্যাট মালিক জাকির হোসেন শিকদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ সময় নজরুল ইসলাম শাবল দিয়ে তার মাথার ডানদিকে আঘাত করেন। পরে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ডান হাত ও কব্জি ভেঙে ফেলে। এ সময় সন্ত্রাসী সাগর চাপাতি দিয়ে বাম হাতে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে বাঁচাতে মাহবুব আলম খান এগিয়ে এলে নজরুল নৃশংসভাবে তার পেটের বাম পাশে শাবল ঢুকিয়ে দেয়। পরবর্তীতে মনিরুল ইসলাম তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে ফেলে যায়। সাগর চাপাতি দিয়ে তার বাম পায়ের গোড়ালির রগ কেটে দেয়। অন্যরাও অস্ত্র দিয়ে মারধর করে।

অফিস কর্মচারী হৃদয় হোসেন তাদের বাধা দিলে সন্ত্রাসী মো. তুহিন তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে তার মাথায় কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে। তাদের সহযোগী মোফাজ্জল (৫০) বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে তার কব্জি ভেঙে ফেলে। সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেন এবং নজরুল ইসলাম হৃদয়ের শরীরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বাম হাতের কব্জি ও বুক-পিঠে গুরুতর জখম করে। পরে আহতদের আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসী মনিরুলসহ অন্যরা ওই অফিসের সিন্দুক ভেঙে নগদ ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। যাবার সময় সন্ত্রাসীরা জাকির হোসেনকে হত্যা করে মৃতদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে দিয়াশলাই খুঁজতে থাকে। আগুন দিতে না পেরে হুমকি দিয়ে বলে ‘যদি বেঁচে থাকিস তাহলে তোকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলব। দেখি তোর কোন বাপ তোদের বাঁচায়।’

আরও জানা যায়, তাদের গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে শান্তিনগরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুব আলমকে মৃত ঘোষণা করেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ভুক্তভোগী আহত জাকির হোসেন শিকদার বলেন, ‘নজরুলের কাছ থেকে আমি অফিসের ফ্ল্যাটটি কিনেছিলাম। কিন্তু নজরুল আমার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেয়ায় ও তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় আমাদের সবাইকে হত্যা করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তাদের নৃশংস হামলায় মাহবুব আলমের মৃত্যু হয়েছে।’ এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন তিনি।